Balkhrabad Gas Systems Ltd

Balkhrabad Gas Systems Ltd

Share

Bakhrabad Gas System started as a vertically integrated gas value chain company under Petrobangla .The Franchise was South East Bangladesh

21/01/2026

প্রতিশ্রুতি পালনে বার্থ ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস
সালেক সুফী
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েই প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁর ,সকল উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা হবে. আক্ষরিক অর্থে সরকারের সময় আছে ২২ দিন। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল প্রতিশ্রুতি পালন করা. এখন বিভিন্ন উপদেষ্টা এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠছে। সরকার কিন্তু ভুল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো.

21/10/2024

ছাত্র শক্তিকে গঠনমূলক কাজে লাগান
সালেক সুফী
জুলাই আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়েছে। রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র শক্তি দেখিয়েছে কিভাবে যান চলাচলে শৃঙ্খলা এনে যানজট নিরসন করা যায়.ছাত্রদের সেই অমিত শক্তি সুচিন্তিত ভাবে ব্যবহার করলে সমাজ জীবনে বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। ছাত্রদের অবসর সময়ে সড়কে শৃঙ্খলা ,ডেঙ্গু মশা নিধন এবং বাজার ব্যাবস্থাপনায় ব্যবহার করা পারে। জানিনা বর্তমান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বর্তমান নেত্রীর হাতে সারা দেশের ছাত্র সমাজের উপর নিরংকুশ নিয়ন্ত্রণ আছে কিনা ? মাঝে মাঝে জার্জিস আলম এবং হাসনাত আব্দুল্লাকে নানা বিষয়ে গর্জে উঠতে দেখা গেলেও অন্তর্বর্তী কালীন সরকার এখনো অগ্রবর্তী চিন্তার ছাত্র সমাজের অমিত শক্তিকে সৃজনশীল কাজে লাগাতে পারেনি। নানা কারণে স্থানীয় সরকার ব্যাবস্থার নির্বাচিত নেতৃত্বে পরিবর্তন হওয়ায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অন্তত শুক্রবার ,শনিবার ছুটির দিন ছাত্রদের স্থানীয় এলাকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় কাজে লাগানো হলে এবারের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো যেত. সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ছাত্রদের কাজে লাগানো অক্ষুন্ন রাখা উচিত ছিল.সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে সড়কে যানজটে আটক থাকার সময় প্রতিবেদকে ছাত্রদের উজ্জ্বল ভূমিকা বিষয়ে উচ্ছসিত প্রশংসা করতে শুনেছি।
আমি আরো মনে করি জুলাই আগস্ট হত্যাকাণ্ডে আহত নিহতদের সঠিক তালিকা প্রণয়নেও ছাত্রদের সঠিক ভাবে ব্যবহারের সুযোগ ছিল. আহত ছাত্রদের সঠিক চিকিৎসার ব্যাবস্থাও এখনো সুনিশ্চিত হয় নি. বর্তমান সরকারের কিন্তু সরকার পরিচালনায় রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নাই. দেশের পুঞ্জীভূত সমস্যা সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজন ছাত্র শক্তির পাশা পাশি সকল শ্রেণীর দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীর সমর্থন এবং সহযোগিতা। এমন কি বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণেও ছাত্রদের কাজে লাগানো যায়. পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও তরুণ সমাজকে কাজে লাগানো যেতে পারে। সমস্যাগুলো সংকটে পরিণত হওয়ার আগেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

18/10/2024

কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে কেন নিরাপত্তা দিতে পারছে না সরকার ?
সালেক সুফী
বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের সাড়া জাগানো সংবাদ সরকার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে অনীহা প্রকাশ করে বাংলাদেশের সর্বযুগের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান তার প্রিয় প্রাঙ্গন ঢাকা মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জীবনের শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলে অবসর নেয়ার সুযোগ পেলো না. অনন্য প্রতিভাধর একজন ব্যাক্তি সাকিবকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থতা গণ বিপ্লবের মাদ্ধমে প্রতিষ্ঠিত সরকারের ভাবমূর্তির জন্য সুসংবাদ বলতে পারছি না. নানা সময়ে নানা জনের নানা কথায় আসস্থ হয়ে সাকিবকে স্কোয়াডে রেখেছিলো বিসিবি নির্বাচক মন্ডলী। সাকিব নিজেও খেলার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওয়ানা হয়ে দুবাই পৌঁছে। ঢাকায় ইতিমধ্যে রাজনীতি দুষ্ট কিছু মানুষ সাকিবের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। সাকিব অনুরাগীরাও পিছিয়ে থাকে নি. এমতাবস্তায় সরকারের কঠোর অবস্থান কাঙ্খিত ছিল। কিন্তু তরুণ ক্রীড়া উপদেষ্টা অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়নোর জন্য সাকিবকে ঢাকায় না আসার পরামর্শ দেয়ায় একজন কিংবদন্তির শেষ টেস্ট ম্যাচ দেশের মাটিতে খেলা হলো না.
বিশ্ব নন্দিত সাকিব আল হাসান ক্রীড়া বিশ্বে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ব্যাক্তি সাকিবকে নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু চৌকষ ক্রিকেটার হিসাবে সাকিব অনন্য বৈশিষ্ট মন্ডিত। বিশ্ব ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা হিসাবে সাকিব বাংলাদেশকে বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে পরিচিতি দিয়েছে। দেশের নাগরিক হিসাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেছে। মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় জড়িয়ে নিন্দিত হয়েছে সন্দেহ নেই. বেশ কয়েকবার বিসিবি এবং আইসিসির দণ্ড পেয়েছে। কিন্তু অনন্য প্রতিভা দিয়ে পারফরমেন্স করে দারুন ভাবে ফিরে এসেছে। বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা সামপ্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন বিশেষত ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের সময় নীরব থাকায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে। ঘটনার সময় অন্নান্য অনেক তারকার মত বিবৃতি না দিয়ে নীরব থেকে ভক্ত অনুরাগীদের আহত করেছে। কানাডায় ফ্রাঞ্চাইজি লীগ খেলায় ব্যাস্ত থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য সাকিবের বিরুদ্ধে খুনের সহায়তার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলা করলেই একজন নাগরিক দোষী হয়ে যায় না. আর ঘটনার বিদেশে অবস্থান করা সাকিবের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দেয়া যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা সেটা বলাই বাহুল্য।
আমি মিজেও মাঠের বাইরে সাকিবের নানা ভুমিকার কঠোর সমালোচক। কিন্তু একই সঙ্গে ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের অনেক অর্জনের মূল ভূমিকা পালন করি সাকিবকে ঘোষণা অনুযায়ী দেশের মাটিতে শেষ বারের মত টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে সরকারের ব্যার্থতাকে ভাবমূর্তির জন্য সঠিক সংকেত বলে মনে করি না. সাকিবের বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় নি. ইদানিং জেলে থাকা অনেক দাগি আসামি এমনকি জঙ্গিদের জামিন দেয়া হয়েছে। অনেক দণ্ডিত আসামির দণ্ড মৌকুফ করা হয়েছে। জানিনা সাকিব আল হাসানের বিষয়ে সিদ্বান্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নেয়া হয়েছে কিনা। বিষয়টি কিন্তু আইসিসি পর্যায়ে গড়াতে পারে। একজন ব্যাক্তি সাকিবকে যদি সরকার নিরাপত্তা দিতে বার্থ হয় তাহলে সেই দেশে বড় ধরণের বৈদেশিক বিনিয়োগ করতেও সহসা দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারে বিনিয়োগকারীরা। জানিনা সুযোগ আছে কিনা। সরকার প্রধান বিষয়টি পুনঃবিবেচনা করতে পারেন। খেলাধুলার সাথে রাজনীতি জড়ানো কখনো মঙ্গোল বয়ে আনে না.
দীর্ঘ সময় জুড়ে ক্রিকেটের তিন ফরমেট টেস্ট ,ওডিআই এবং টি ২০ শীর্ষ চৌকষ খেলোয়াড়ের অবস্থান ধরে রেখেছে সাকিব ,বিশ্ব বরেণ্য স্যার গারফিল্ড সোবার্স ,স্যার অ্যালেন বোথাম, জ্যাক কালিস স্যার রিচার্ড হ্যাডলি ,,ইমরান খান ,কপিল দেবের সঙ্গে সগৌরবে উচ্চারিত সাকিবকে দেশের মাটিতে জীবনের শেষ টেস্ট খেলতে না দেয়া জাতি হিসাবে বাংলাদেশের ব্যার্থতা হিসাবে বিবেচিত হবে.

জ্বালানি সঙ্কট উত্তরণের পথনকশা - রঙ বেরঙ 09/10/2024

https://rangberang.com.bd/%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-%e0%a6%89%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0/

জ্বালানি সঙ্কট উত্তরণের পথনকশা - রঙ বেরঙ সালেক সুফী সবাই জানে তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে দেশ। যত দিন যাচ্ছে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। ছাত্র জনতার আন্দোলনে শেখ হ.....

06/10/2024

তিতাস গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা মহাসংকটে
সালেক সুফী
বাংলাদেশের জ্বালানি বিতরণ এবং বিপণন ব্যাবস্থার সবচেয়ে পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। বৃহত্তর ঢাকা এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহের ৬০% চাহিদা মেটায় তিতাস গ্যাস। উনিশ ষাট দশকের শেষ থেকে ৬৪ বছর যাবৎ নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে কোম্পানিটি গ্যাস বিতরণ কাজে নিন্দিত এবং নন্দিত হয়েছে। এই কোম্পানির দক্ষ অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড ,জিটিসিএল কোম্পানি গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছে। ইদানিং গ্যাসের উৎপাদন এবং সরবরাহের কারণে দেশ জুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট সৃষ্টি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় আছে তিতাস গ্যাস।
এমনিতেই পরিস্থিতির চাপে ঢাকা ,নারায়ণগঞ্জ ,গাজীপুর এলাকার সেই ৭০ দশকে নির্মিত শত সহস্র ছিদ্র যুক্ত বিতরণ পাইপলাইন সমূহ পরিবর্তন না করায় ছিদ্র পথে অবিরত গ্যাস উদগীরণ হচ্ছে। বিতরণ ব্যবস্থা অনিরাপদ হয়ে পড়ে প্রায়শই গ্যাস দুর্ঘটনায় যান মালের ক্ষতি হচ্ছে। তদুপুরি সরকারের গৃহস্থলি গ্যাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রতিক্রিয়ায় এক শ্রেণীর অশুভ সিন্ডিকেট লক্ষ্ লক্ষ অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে এবং অবৈধ গ্যাস ব্যাবহার করে বিতরণ ব্যাবস্থাকে অনিরাপদ এবং অরক্ষিত করে ফেলেছে। এমনিতেই ২০০০ এমএমসিএফডি চাহিদার তুলনায় প্রায়শই ১৪০০-১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তদুপুরি শতছিন্ন বিতরণ ব্যাবস্থায় ডিজাইন চাপে গ্যাস সরবরাহ করা বা কাঙ্খিত মাত্রায় ওডারেন্ট প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না. প্রতিবেদক নিজেও ১৯৭৮-১৯৮১ তিতাস গ্যাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় ঢাকা ,নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর এলাকায় বিতরণ পাইপ লাইন নির্মাণ কাজে সম্পৃক্ত ছিলাম। পরবর্তী সময়ে জিটিসিএলের পরিচালক ( অপারেশন ) থাকা অবস্থায় জাতীয় গ্যাস গ্রিড থেকে জিটিসিএল বিতরণ ব্যাবস্থায় গ্যাস সরবরাহ করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর ,আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার শিপ্ল মালিকদের সঙ্গে আলাপ করেছি। আমার বিবেচনায় তিতাস গ্যাসের সম্পূর্ণ বিতরণ এলাকা মহা সংকটে আছে. সরকার ( পেট্রোবাংলা ,বিইআরসি ,জ্বালানি মন্ত্রণালয় ) সংকটের স্বরূপ অনুধাবন পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ২০২৫ ,২০২৬ সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমতা বস্তায় নিম্ন বর্ণিত সুপারিশ করবো
বিতরণ এলাকার বিশালত্ব বিবেচনায় নিয়ে তিতাস গ্যাস কোম্পানীর গ্যাস বিতরণ কার্যক্রম জোন ভিত্তিক বিভাজন হতে পারে নিম্ন রূপে
ঢাকা মেট্রোলপলিস ,মানিকগঞ্জ -গাজীপুর এলাকা
নারায়ণগঞ্জ -মুন্সীগঞ্জ এলাকা
বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং নরসিংদী এলাকা
উপরোক্ত এলাকা সমূহের গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা জোনাল ভিত্তিতে পৃথক করা সম্ভব হলে গ্যাস ইনটেক এবং ব্যবহার অধিকতর নিবিড়ভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে. ঢাকা সদর দপ্তর থেকে বিস্তীর্ণ এলাকার গ্যাস ব্যবহার বিশেষত অবৈধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন প্রায় অসম্ভব।
সবাই জানে সঠিক এস বিল্ট নকশা সংরক্ষণ না করায় এবং ডিজিটাল ম্যাপিং ব্যবস্থা শুরু করেও একসময় শেষ না করায় বর্তমানে গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক চিন্নিত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। অনেক পূর্ণ গ্যাস পাইপ লাইন ১৫-২০ ফুট মাটির নিচে চাপা পরে গাছে। ইদানিং জাইকার সহায়তায় কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলক ভাবে ডিজিটাল ম্যাপিং কার্যক্রম শুরু হলেও বিস্তীর্ণ এলাকায় সকল পুরাতন পাইপলাইন চিন্নিত করা অসম্ভব। শুনলাম দেহকে -নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা- গাজপুর এলাকায় পাইপ লাইন প্রতিস্থাপনের দুটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন না করে পুনরায় বিবেচনার জন্য ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন গ্যাস বিতরণে এমডিপিই এবং এইচডিপিই লাইন পাইপ এবং ফিটিংস ব্যাবহৃত হয় ,বিতরণ লাইনের সঙ্গে ফাইবার অপটিক্স সংযুক্ত করে স্মার্ট সেন্সিং ব্যবস্থা করা হয়, স্থাপনা সমূহ জিআইএস সংযুক্ত করে ডিজিটালি গ্যাস বিতরণ কার্যক্রম স্কাডা বা টেলেমেত্রি নিয়ন্ত্রণ করা করা হয়.
আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বিতরণ ব্যবস্থা চালু করতে করতে হলে বিদ্যমান বিতরণ ব্যবস্থাকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আন্তে হবে. সেই ক্ষেত্রে দেশের সবচেয়ে পূরণে এবং সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাসের সমস্যা ,সীমাবদ্ধতা চিন্নিত করে একটি পেশাদার কোম্পানি পরিচালক মন্ডলীর তত্ত্বাবধানে স্বনির্ভর প্রসাধন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে.
বিদ্যমান অবস্থার জন্য পেট্রোবাংলা এবং মন্ত্রণালয়ের দায় এড়ানোর কোন উপায় নেই. অনেক দিন যাবৎ তিতাস পরিচালক মন্ডলীর সভাপতি জ্বালানি সচিব, সদস্য পেট্রোবাংলা ,বিপিডিবি চেয়ারম্যান। কেন তারা কোম্পানির সংকট নিরসনে কাজ করেন নি. দেখা গেছে সংকটে পাশে না দাঁড়িয়ে পেট্রোবাংলা এবং মন্ত্রণালয় অন্নান্ন স্থান থেকে প্রধান নির্বাহী তিতাস গ্যাসে চাপিয়ে দিয়েছে, দীর্ঘদিন কোম্পানির অর্গানোগ্রাম অনুমোদন না করে কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করা কর্মকর্তা কর্ম চারিদের সঙ্গে বৈষম্য মূলক আচরণ করেছে।
আশা করি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তিতাস গ্যাস প্রশাসনকে আমলা মুক্ত ,দুর্নীতি মুক্ত করে সৎ ,নিবেদিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ করে দেবে। ফিরে আসবে তিতাস গ্যাসের ঐতিহ্য।

03/10/2024

সংস্কার কাজে গতি আনা জরুরি .
সালেক সুফী
সড়কে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসে নি. কারণে অকারণে যানজটের কবলে নগরবাসী, শিল্পাঙ্গনে অস্থিরতা কাটে নি ,বাজারে আসে নি কাঙ্খিত স্বস্তি, জ্বালানি কোম্পানিগুলোতে ক্ষোভ বিরাজমান ,জ্বালানি সংকট অব্যাহত, ছাত্র জনতার আন্দোলন কালে আহত নিহতদের অনেকের পরিবার এখনো অসস্তিতে আছে। শিক্ষা। সাস্থ। দুর্নীতি দমন সংস্থা ,জেলা প্রশাসন ,পুলিশ প্রশাসনে গতি আসেনি ,ক্রীড়াঙ্গন অনেকটা স্থবির। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৬০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। জানি এবং মানি ১৫ বছরের ভেঙে পড়া সব কিছু গুছিয়ে গতি ফিরিয়ে আনার অনেক চ্যালেঞ্জ। আর্থিক ,ক্ষেত্র ,ব্যাঙ্ক ,বীমা ধীরে ধীরে ব্যাবসা বিনিয়োগ সহায়ক হয়ে উঠছে। কিন্তু শুল্ক ব্যাবস্থাপনা ,পোর্ট ফ্যাসিলিটিজ ,সড়ক,রেল পরিবহন, জ্বালানি নিরাপত্তা সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগ নানা প্রতিদ্বন্দ্বিকতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে পূর্ববর্তী সরকারের সুবিধাভোগীরা এখনো তবিয়তে আছে. পরিবর্তনের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করছে। একশ্রেণীর জনগোষ্ঠীর মনে ধারণা আন্দোলন করলেই সব কিছু আদায় হবে. তাই সরকারি কাজে গতিশীলতা ফিরে আসে নি. দেশি বিদেশী শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা দেখেছি। ৬০ দিন হয়তো খুব বেশি সময় না. তবে একেবারে কম বলা যাবে না. পৃথিবী কিন্তু থিম নেই. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে শিল্প অঞ্চলে দ্রুত স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে. গাজীপুর ,আশুলিয়া এলাকায় শিপ্লগুলো এমনিতেই জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। এরই মাঝে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক অসন্তোষ। আমি কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে দেখেছি অধিকাংশ জানাই না শ্রমিক অসন্তোষের কারণ। কিছু মানুষ অশুভ শক্তির ইন্ধনের কথা বলেছে। শ্রমিকদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেয়ার পরেও কেন অসন্তোষ? এই ধারা অক্ষুন্ন থাকলে বাংলাদেশী পণ্য অনতিবিলম্বে আন্তর্জাতিক বাজরে প্রতিযোগিতার পরিবেশ হারাবে। জাতীয় স্বার্থেই সকল সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়তা সেটি কামনা করি.
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি। দীর্ঘ দিন স্থগিত থাকার পর যেইনা সামিট এনার্জি মালিকানাধীন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু হলো স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সঙ্কট কিছু দিনের জন্য বেড়েছিল। যাহোক সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দুটি কার্গো ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অচিরেই ৫০০ মিলিয়ন আর এলএনজি যোগ হবে জাতীয় গ্যাস গ্রীডে। ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সঞ্চালন হলে কিছুটা স্বস্তি আসবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ,শিল্পে। শুনছি এবং দেখেছি গভীর রাতে পেট্রল পাম্পগুলোতে সারি সারি কাভার্ড ভাণ দাঁড়িয়ে থেকে সিএনজি সংগ্রহ করছে। এগুলো জ্বালানি সংকটে থাকা শিল্প কারখানা গুলো ব্যবহার করে. সিএনজি চালিত গাড়ি চালকরা অভিযোগ করেছে তারা নির্ধারিত সময়েও সঠিক মোট সিএনজি পাচ্ছে না. এগুলো দেখার কেউ নেই. সরকার অপরিকল্পিত ভাবে ভোলা গ্যাস ক্ষেত্রে গ্যাস সিএনজি করে ঢাকায় আনার একটি প্রকল্প স্থগিত করেছে। গ্যাস উৎপাদনে বড় উৎকণ্ঠার কারণ ১০০০ এমএমসিএডি উৎপাদনকারী শেভ্রন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদনে ক্রমহ্রাসমান ধারা দেখে। জাতীয় গ্যাস উৎপাদনে ৫০% র অধিক যোগানদানকারী এই গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদন দ্রুত কমে গেলে মহা সংকট হতে পারে। অন্নান্ন গ্যাস ক্ষেত্র বা সর্বোচ্চ পরিমান এলএনজি আমদানি করেও সেই মহাসংকট সামাল দেয়া যাবে না. সরকার গৃহীত ৪৮ কূপ অথবা ১০০ গ্যাস কূপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পেট্রোবাংলা সফল হবে বলে নিশ্চয়তা নেই. পেট্রোবাংলার ব্যাবস্থাপনার সঙ্গে কয়েকটি কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বিনষ্ট হয়েছে। অচিরেই শীর্ষ ব্যাবস্থাপনা পর্যায়ে পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রয়োজনের খাতিরে কিছু প্রকল্প যেমন মহেশখালীর তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল , ভোলা থেকে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন নির্মাণ , মহেশখালী থেকে তৃতীয় সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ ,মাতারবাড়িতে ভূমি ভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। পেট্রোবাংলা এবং কোম্পানীসমূহে বিরাজমান বৈষম্যগুলো দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। সরকার কাজ করছে কিন্তু সেখানেও গতিহীনতা. জ্বালানি নিশ্চয়তা বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। নভেম্বর থেকে জানুয়ারী বিদ্যুৎ চাহিদা অপেক্ষাকৃত কম থাকবে। এই সময়ে জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যাবহারে কৃচ্ছতা পরিকল্পনা করে বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। খুঁজতে হবে সাগর থেকে নির্মিত এসপিএম প্রকল্প কেন পুরোমাত্রায় ব্যাবহৃত হচ্ছে না? কি অবস্থা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত নির্মাণাধীন তরল জ্বালানি বহনকারী পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্পের। অনেকের ধারণা সেনাবাহিনীর সহায়তায় নির্মাণাধীন প্রকল্পে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। যাহোক জ্বালানি বিদ্যুৎ খাতের কর্মকান্ড নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। অচিরেই কিছু ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে আশা করা যেতে পারে।
সরকারকে মেট্রো রেল চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য সাধুবাদ দিবো। স্বল্প খরচে ক্ষতিগ্রস্থ স্টেশনগুলো দ্রুত কার্যক্ষম করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রশংসার দাবিদার। আমি নিজে মেট্রো ব্যবহার করি. সরকার দ্রুত মেট্রো সুবিধা সম্প্রসারিত করলে জনগণ উপকৃত হবে. আরো অন্তত দুই জোড়া মেট্রো রেল যোগ করা যায় কিনা ভেবে যেতে পারে। একই সঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসের অবশিষ্ট কাজ কিভাবে দ্রুত শেষ করা যায় বিবেচনা করতে হবে. গাজিপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন ঢাকা বাইপাসের কাজ ,আশুলিয়া -টাঙ্গাইল রোড এলেভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ে নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হয় প্রয়োজন। দেখলাম যমুনা রেল সেতু এবং গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে, ডিসেম্বর ২০২৪ নাগাদ গ্যাস পাইপলাইন সহ রেল সেতু চালু হলে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে.সেদিন সিরাজগঞ্জে চালু এনডব্লিউপিজিসিএলের গ্যাস ভিত্তিক চারটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করলাম। কেন্দ্রগুলো গ্যাস সংকটে ভুগছে। অত্যাধুনিক এই কেন্দ্রগুলোকে চাহিদা মাফিক কিভাবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় সেটি বিবেচনা করার আহবান জানাচ্ছি।
জানি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার বিষয়ে অনেক আন্তরিক। সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংস্কার সম্পাদনের জন্য সরকার প্রশাসনে নির্মোহ থেকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে. পূর্ববর্তী সময়ে সুবিধাভোগী কর্মরতদের বহাল রেখে রেখে সেই কাজ গুলো করা সহজ হবে না. পরিকল্পিত ভাবে কাজগুলো দ্রুত করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আগ্রহী প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের সহায়তা কামনা করা যেতে পারে। কিন্তু সেই ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন।

03/10/2024

সক্ষিপ্ত সফর শেষ হয়ে আসছে
সালেক সুফী
একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রণোদনায় বাস্তবায়নাধীন একটি কার্যক্রমের প্রতিবেদনের উপর স্টেকহোল্ডারস কনফারেন্স অংশগ্রহণ করতে চার সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশ এসেছিলাম। আরো উদ্দেশ্য ছিল ছাত্র জনতার মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ বিষয়ে জানা এবং নিজের বিশেষজ্ঞ দক্ষতা থেকে সংস্কার কাজে পরামর্শ প্রদান। হাসপাতাল সমূহ এবং কয়েকটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহত এবং আহত বীরদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। হাহাকার দেখে শুনে মর্মাহত হয়েছি। বীরদের সাথে কথা বলে সম্মান জানিয়েছি। নিহত এবং আহতদের পরিবারদের পুনঃবাসন বিষয়ে অনেক কিছুই করার আছে.
মিডিয়ার কল্লানে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কথা বলার সুযোগ হয়েছে। আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বেশ কিছু সাধারণ ছাত্র জনতার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। জ্বালানি কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। কিছু বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প পরিদর্শন করেছি। হয়তো বাকি সময়ে আরো কিছু প্রকল্প পরিদর্শন করবো। পেট্রোবাংলা এবং কোম্পানি সমূহের মাঝে বিরাজমান সংকট বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ দিতে চেষ্টা করেছি। জানিনা পেট্রোবাংলা এবং কোম্পানিগুলো যৌক্তিকভাবে সমস্যা গুলো সমাধান করতে পারবে কিনা। জ্বালানি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরে না আসলে কিন্তু সংকট ঘনীভূত হবে.
আমি মনে করি জ্বালানি উপদেষ্টা কিছু সুনিদৃষ্ট বিষয় যেমন সিস্টেম লস , জ্বালানি ক্ষেত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য , সকল পেট্রোবাংলা কোম্পানি গুলোর জন্য অভিন্ন চাকুরী বিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নিলে বিরাজমান অস্থিরতা দূর হবে।
বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে পরিচালিত হোক , বাংলাদেশ কঠিন জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জন করুক দূর থেকে সেই প্রত্যাশা করবো। প্রয়োজন জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলায় কিছু সংস্কার ,কিছু ব্যক্তিত্বসম্পন্ন দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা।
ক্রীড়াঙ্গনেও পরিবর্তনের ছোয়া লেগেছে। ক্রীড়াঙ্গনে সংস্কার বিষয়ে গঠিত কমিটির সঙ্গে মত বিনিময় করে কিছু সুপারিশ করবো। তরুণ সমাজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে অবশ্যই ক্রীড়াঙ্গনে গতিশীলতা আনতে হবে। সর্বতভাবে রাজনীতি মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে.

30/09/2024

সাশ্রয়ী হওয়া এবং কৃচ্ছতাই এখন প্রধান কৌশল
সালেক সুফী
অপশাসন এবং দুর্নীতির কবলে থাকা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যাবস্থাপনা সফল সময়ে ঘুরে দাঁড়াতে হলে এখন প্রয়োজন ব্যাবহারে সাশ্রয়ী হওয়া এবং কৃচ্ছতা সাধন। জ্বালানি সংকট থেকে আগামী দুই তিন বছরে মুক্ত হবার কোনো ম্যাজিক কৌশল নেই. ৪২০০-৪৫০০ এমএমসিএফডি গ্যাস চাহিদার বিপরীতে এখন সর্বোচ্চ সরবরাহ ক্ষমতা ৩১০০ এমএমসিএফডি। ১২০০-১৪০০ এমএমসিএফডি ঘাটতি বিদ্যুৎ ,সার উৎপাদন থেকে শুরু করে সকল গ্যাস গ্রাহকের জন্য আতঙ্কের সৃষ্টি করে চলেছে। তদুপুরি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর উপদেষ্টা ,প্রতিমন্ত্রীর ব্যাপক দুর্নীতি প্রকাশিত হবার প্রেক্ষিতে জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পেট্রোবাংলার সঙ্গে কোম্পানিগুলোর দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ বর্তমান পর্যায় থেকে কোন অবস্থায় ২০২৭ র আগে বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই. বরং দেশীয় ২০০০ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদনে ৫০% যোগানদানকারী বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদন হটাৎ করে দ্রুত কমে গেলে মহাসঙ্কটে পড়বে দেশ. এমতাবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবরাহ ২০১০ বিশেষ আইনের অধীনে সামিট এনার্জির সঙ্গে স্বাক্ষরিত তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ চুক্তি বাতিল করা হলে নতুন চুক্তি সম্পাদনে অন্তত ১ বছর পিছিয়ে যেতে হবে. পরিস্থিতির কারণে চুক্তি বহাল চুক্তির শর্তগুলো আরো দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। ২০১৭ নাগাদ টার্মিনালটি অপেরেশনে আসার আগেই মাতারবাড়ি থেকে জিটিসিএলকে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে. ভোলার গ্যাস গ্রীডে সঞ্চালনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে.
গত তিন সপ্তাহ জ্বালানি কোম্পানিগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার প্রেক্ষিতে নিশ্চিত হয়েছি কিছুটা সমন্বয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে এখনো গ্যাস সঞ্চালন এবং বিতরণ ব্যবস্থা থেকে ১৫০-২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অপব্যাবহার রোধ করা সম্ভব। ১৯৯৩ থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাবস্থায় শৃঙ্খলা আনার জন্য সৃষ্ট গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানিকে সমুদয় সঞ্চালন পাইপ লাইন এবং স্থাপনা হস্তান্তর করা হয় নি. বেশ কিছু পাইপ লাইন পেট্রোবাংলা এবং বিতরণ কোম্পানি সমূহের আওতায় থাকায় গ্যাস সরবরাহ চেন বাব্বস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাব আছে. গ্যাস ক্ষেত্র সমূহ এবং এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে গ্যাস সঞ্চালন নেটওয়ার্কে গ্যাস সঞ্চালনের ক্ষেত্রে আধুনিক কাস্টোডি ট্রানফার মিটার সর্বক্ষেত্রে সঠিকভাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে না. আধুনিক ফ্লো কম্পিউটার থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সনাতন পদ্ধতিতে গ্যাস পরিমাপ করা হচ্ছে। অপরদিকে সঞ্চালন নেটওয়ার্ক থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে গ্যাস সরবরাহ অনেক ক্ষেত্রেই মিটার ব্যবহার না করে সঞ্চালন লাইন অযাচিত ভাবে হট ট্যাপিং করে দেয়া হয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে জিটিসিএলএর গ্যাস সঞ্চালন মিটার বিহীন অসচ্ছভাবে চালু থাকার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি পেট্রোবাংলা থেকে জিটিসিএলএর উপর ৩% সিস্টেম লস চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। সঠিকভাবে পরিচালিত হলে সঞ্চালন ব্যাবস্থায় সর্বোচ্চ ১- ১.৫% কারিগরি লস হতে পারে। জিটিসিএলের নিয়ন্ত্রণাধীন সঞ্চালন নেটওয়ার্ক থেকে কোনো অযথায় মিটার বিহীন গ্যাস সরবরাহ করা সঙ্গত হয় নি. যত্রতত্র হট ট্যাপিং করে গ্যাস সংযোগ প্রদানের সিদ্ধান্তগুলো ছিল হটকারিতা।
আমি দেশে এবং বিদেশে গ্যাস সরবরাহ চেন ম্যানেজমেন্ট নিবিড় ভাবে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে সুনিদৃস্ট সুপারিশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে জমা দিয়েছি। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ ব্যাবস্থাপনা উন্নয়নে আমার সুপারিশ প্রদান করেছি। সুযোগ পেলে জ্বালানি উপদেষ্টাকেও অবহিত করবো।
আমার মতে বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাস উৎপাদন দ্রুত কোমর সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে পেট্রোবাংলা এবং বাপেক্স কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন গ্যাস কূপ খনন প্রকল্প দ্রুত সম্পাদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পটিয়া ,জলদি ,সীতাপাহাড় অঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধান বিষয়টি নিয়ে আর বিলম্বের সুযোগ নেই. তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র সহ অন্নান্ন গ্যাস ক্ষেত্রের গভীরে উচ্চ চাপ স্তরে গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে স্থাপনতব্য ভূমি ভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণকাজ অবিলম্বে শুরু করতে হবে.দ্বিধাদ্বন্দ্ব পরিহার করে অবিলম্বে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রীডে সংযুক্ত করতে হবে.
আমি বিতরণ কোম্পানিগুলোর অকারিগরি গ্যাস লস অর্থ্যাৎ গ্যাস চুরি নিবিড় অভিযানের মাদ্ধমে শুন্যের কোঠায় নিয়ে আসার সুপারিশ করেছি। সেই সঙ্গে জ্বালানি ব্যাবস্থাপনার সর্বক্ষেরে সুনিদৃষ্ট পেশাদারদের পদায়ন করে আমলা নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করার সুপারিশ করেছি। তিতাস গ্যাস ,বাপেক্স ,জিটিসিএলের মত কারিগরি ঘন সংস্থা সমূহকে কোম্পানি এক্ট অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলার সুপারিশ করেছি। জ্বালানি সেক্টরের জন্য বিশেষ বেতন কাঠামো চালু করে কাজে স্বচ্ছতা এবং জবাব দিহিতার সুপারিশ করেছি।
বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গৃহস্থলী ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানির সুযোগ থাকায় শিপ্ল উৎপাদনে গ্যাস ব্যবহারকে প্রাধিকার দেয়ার সুপারিশ করেছি।
উপরোক্ত সুপারিশ গুলো নানা মাদ্ধমে গত ১০ বছর নিয়মিত দেয়া হলেও শুনা হয় নি। এখন যেহেতু সরকার সংস্কার চান তাই আশা করি দেশের স্বার্থে কিছুটা হলেও শুনবেন। আমরা প্রবাসীরা কিন্তু দেশের স্বার্থে যে কোনো শুভ উদ্যোগের সারথি হবো।

26/09/2024

মেট্রোরেল সুবিধা সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে
সালেক সুফী
গত দুই দিন উত্তরা থেকে কারোয়ান বাজার -প্রেস ক্লাব মেট্রো রেল যাতায়াত করে ব্যাপক বাস্তব অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করলাম। এশিয়া ,ইউরোপ ,উত্তর আমেরিকা অস্ট্রেলিয়ায় অন্তত ১৬ দেশে মেট্রোরেল ,বুলেট ট্রেন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে পারি আপাতত বাংলাদেশের মেট্রোরেল সবার সাথেই তুলনীয়। তীব্র যানজটের ঢাকা মহানগরীতে মেট্রো রেল নিঃসন্দেহে আশীর্বাদ। তবে বিপুল জনগোষ্ঠীর শহরে মেট্রোরেল নিতান্ত অপ্রতুল। জানিনা ইঞ্জিন গুলো অতিরিক্ত আরো দুটি ক্যারেজ বহন করতে পারবে কিনা অথবা যাতায়ত বিরতি ১০ মিনিটে কমিয়ে আনা যাবে কিনা। দেখলাম যাত্রীদের ব্যবহার অনেক সৌজন্যমূলক হয়েছে। আমাকে প্রবীণ থেকে অনেকেই বসতে দিয়েছে। নারীদের সম্মান জানানো হচ্ছে। এবার সফরে অধিকাংশ কাজ যেহেতু পেট্রোবাংলা ,তিতাস গ্যাস ,জিটিসিএল নিয়ে তাই মেট্রোরেল ব্যবহার করবো যখন মন চায়. মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী প্রমাণিত মেট্রো রেল সন্দেহ নেই. চলমান গাবতলী থেকে নির্মানাধীন দ্বিতীয় মেট্রোরেল ২০২৭ নাগাদ চালু হলে আরো জনগোষ্ঠী সুবিধা পাবে। বিমানযাত্রীদের জন্য সুবিধা সম্প্রসারিত হবে.

24/09/2024

জ্বালানি সেক্টর সংস্কারের কোন বাস্তব সম্মত উদ্যোগ চোখে পড়ছে না
সালেক সুফী
প্রায় দেড়মাস হয়ে গেলো ছাত্র জনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হাজার মানুষের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অন্তর্বর্তী কালীন সরকার গঠিত হয়েছে। আর কিছু দিন পরেই তিন মাস বা ৯০ দিন সময় পেরিয়ে যাবে। দেশে কিন্তু সামরিক শাসন বা জরুরি অবস্থা ঘোষিত হয় নি. প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথিত পদত্যাগের প্রামানিক দলিল জনসম্মুক্ষে প্রদর্শিত হয় নি. রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়েছেন। সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন। কনস্টিটিউশন বহাল থাকায় শুধু মাত্র রাষ্ট্রপতি এখন দেশের একমাত্র কনস্টিটিউশন সম্মত ব্যাক্তি। এখন রাষ্ট্র সংস্কারের অতি বিষয়গুলোর পাশাপাশি প্রয়োজন দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত যে অবাধ ,নিরপেক্ষ , অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের মাদ্ধমে গঠিত সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সকল কর্মকান্ডকে বৈধতা প্রদান করবে। এই সরকার কিন্তু সরকারি কাঠামো পরিবর্তন বা কনস্টিটিউশন পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারবে না. তবে সংশোধন বা পরিমার্জন বিষয়ে সুপারিশ রেখে যেতে পারবে যেটি নির্বাচিত সরকার ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে অনুমোদন করবে।
আগস্ট ৮ ,২০২৪ থেকে এযাবৎ ব্যাংকিং এবং আর্থিক খাতে বেশ কিছু পরিবর্তন এবং সংস্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর বেশ কিছু সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে লুট হয়ে যাওয়া ধ্বংসের দারপ্রান্তে উপনীত বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক জাগিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে, অনাদায়ী বিপুল পরিমান ঋণ , পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রেমিটেন্স প্রভাবে গতি আশায় বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ে শুভ প্রভাব স্মৃতি হয়েছে। এই ধারা বজায় থাকলে রুগ্ন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে আশা করা যায়. পাশা[পাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান কর কাঠামো পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ খাত থেকে কর আহরণের বাস্তব মুখী কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
কিন্তু হতাশার বিষয় হলো পুলিশ এবং সাধারণ প্রশাসন পুরোপুরি কার্যক্ষম না হওয়ায় দেশে শান্তি শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। শিল্পাঙ্গন অস্থির ,দখলের হাত বদল হয়েছে। সড়ক পরিবহন এবং বাজার সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে ফেলা যায় নি. সড়ক মহাসড়কে যান জট আগের মতোই অস্বস্তি সৃষ্টি করে চলেছে। তবে অফিস আদালতে ঘুষের সংস্কার স্থগিত হওয়ায় কাজের গতি স্তব্ধ হয়ে আছে. বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্বাদির মূল্য এখনো সাধারণ জনসাধারণের আওতায় আসে নি. শিক্ষা ,স্বাস্থ ,কৃষি ,বাণিজ্যে এখনো প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংস্কার শুরু হয় নি.
দেশে অন্যতম প্রাধিকার প্রাপ্ত জ্বালানি বিদ্যুৎ খাতে কিছু অতি জরুরি অনুশাসন আনা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হলেও সঙ্কট অব্যাহত রয়েছে। সবার জানা আছে প্রাথমিক জ্বালানি সংকটে ভুগছে দেশ. নিজেদের প্রমাণিত গ্যাস সম্পদ দ্রুত নিঃশেষ হয়ে আসছে। নানা প্রক্রিয়াকরণ এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতার জন্য বাপেক্স /পেট্রোবাংলার গ্যাস অনুসন্ধান /উন্নয়ন প্রক্রিয়া গতি পাচ্ছে না. দীর্ঘদিন সাগরে ভাসমান সামিটের এলএনজি টার্মিনালটি পুনরায় সক্রিয় হলেও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতায় পড়েছে। পেট্রোবাংলার আহবানে মাত্র দুটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ায় প্রচলিত জাতীয় ক্রয় নীতির আলোকে অনুমোদনে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান অবস্থায় ১১০০ এমএমসিএফডি এলএনজি আমদানি নিশ্চিত হলে জ্বালানি বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষেত্রে স্বস্তি আসতো। বিশেষ বিবেচনায় পেট্রোবাংলাকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ দেয়া যেতে পারে। নতুন করে দরপত্র আহবান করা হলে তিনটি বা তার বেশি দরপ্রতাব পাওয়া যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নাই. অথচ গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ,সারকারখানা গুলো দীর্ঘদিন বসে আছে, বিদ্যুৎ গ্যাস সঙ্কটে শিল্পগুলো সংকটে।
এদিকে পেট্রোবাংলার সঙ্গে গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্বার্থ সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলন চলছে। কোম্পানিগুলো স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে পেট্রোবাংলার কথিত খবরদারি মানতে চাইছে না. কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে। যেগুলো সমাধান জরুরি। কিন্তু জনসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধায় গ্যাস কোম্পানিগুলোতে বিরাজমান অরাজক অবস্থার আশু নিরসন প্রয়োজন। সরকার দ্রুত জ্বালানি বিদ্যুৎ সরবরাহ বিশেষ আইন ২০১০ কার্যকারিতা স্থগিত করেছে। এর অধীনে বিবেচনাধীন সকল প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। কিছু প্রকল্প যেমন সামিট এনার্জি কর্তৃক বাস্তবায়নতব্য তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল অগ্রবর্তী অবস্থানে থাকায় বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাতারবাড়ি /মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রীডে তৃতীয় সমান্তরাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। অতি জরুরি হয়ে পড়েছে মাতারবাড়িতে স্থল ভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর করা.
গ্যাস সরবরাহ চেন ব্যাবস্থাপনায় প্রচলিত আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে. ভার্টিক্যালি ইন্টিগ্রেটেড গ্যাস সরবরাহ চেন উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ বিষয়ে বিভক্ত করে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা সৃষ্টির জন্য আপস্ট্রিম ,মিডিস্ট্রিম এবং ডাউনস্ট্রিম সেগমেন্ট বিভক্ত করা হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাত্যয় থাকায় জটিলতা রয়ে গাছে। এক কোম্পানির মালিকানা থেকে গ্যাস অন্য কোম্পানির কাছে হস্তান্তর অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিক মিটারিং ব্যাবস্থার মাদ্ধমে হচ্ছে। আধুনিক মিটারিং ব্যবস্থা সকল ক্ষেত্রে না থাকায় গ্যাস সিস্টেম লস নিয়ে উদোর পিন্ডি বুদোর ঘরে পড়ছে। গ্যাস বিতরণ ব্যাবস্থায় বিপুল পরিমান অবৈধ ব্যবহার সামাল দেয়া যাচ্ছে না. সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। গ্যাস কোম্পানিগুলোতে দুর্বৃত্তায়ন চলছে।ইদনিং আবার পদায়ন ,পদোন্নতি নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। পেট্রোবাংলার কোম্পানিগুলোকে আমলা নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করে সঠিক পেশাদারদের মাদ্ধমে পুনরায় গঠন গড়ে গতিশীল করা এখন সময়ের দাবি। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ,পেট্রোবাংলায় নিকট অতীতে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনিদৃস্ট প্রমান আছে তাদের অবিলম্বে অপসারণ করে যোগ্য দক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়ন করে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেয়া জরুরি। একই সঙ্গে বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে.
মনে রাখতে হবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা একান্তই অপরিহার্য। জ্বালানি নিরাপত্তা কিন্তু এখন নাজুক। শুধু কথায় খৈ ভিজবে না. প্রয়োজন প্রমাণিত অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে জ্বালানি ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। সময় গেলে সাধন হবে না. আমি আগামী দুই মাসের মধ্যে জ্বালানি খাতে কিছু অপরিহার্য সংস্কার দেখতে চাই.

21/09/2024

দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমি ঈশান কোনে মেঘ দেখছি
সালেক সুফী
অনেক আশা আর স্বপ্ন নিয়ে হাজার প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে আন্তরিকতার সঙ্গে সহায়তা করতে এসেছি দেশে। চেষ্টা করছি বেপথু জ্বালানি সেক্টরকে ঘুরে দাঁড়ানোর যুদ্ধে শামিল হতে. আমার দুটি কোম্পানি তিতাস গ্যাস ,জিটিসিএল সহ বাংলাদেশের গ্যাস সেক্টরকে পূর্ণ মর্যাদায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কি কি প্রয়োজন সেই বিষয় গুলো মোটামুটি জানা আছে. গুছিয়ে সেগুলো যথাযথ পর্যায়ে উপস্থাপন করবো।
প্রতিদিন যাদের সাথেই কথা হচ্ছে জুলাই আগস্ট হরর অভিজ্ঞতা শুনে বিস্মিত হচ্ছি। এরই মাঝে শিল্পাঞ্চলের অরাজকতা , ঢাকা বিশ্ববিদ্দালয়ের অমানুষিক হত্যাকান্ড , বায়তুল মসজিদের ঘটনা, পার্বত্য এলাকার সংঘর্ষ বিচলিত করছে। সরকার কিন্তু এখনো স্থিতিশীলতা আনতে হিমশিম খাচ্ছে। ছাত্রদের বিশাল অংশ পড়ার টেবিলে ফিরে গাছে। বাকিদের ফিরে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই. দেশের দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা কোনো ভাবেই অরাজনৈতিক সরকারের পক্ষে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না. দুটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে দ্রুত সংস্কার করে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আন্তে হবে. জুলাই আগস্ট আন্দোলনে নিহত আহতদের পরিবারের পাশে জাতিকে দাঁড়াতে হবে. দেশপ্রেমিক জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধ করতে একতা বদ্ধ থাকতে হবে.
বর্তমান সরকারের কিন্তু বৈধতা নেই। বিষয়টি মাথায় রেখে সম্ভাব্য দ্রুততার সঙ্গেই অবাধ ,নিরপেক্ষ ,গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হবে. যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু সংস্কার করতে হবে কনস্টিটিউশন।
যত দিন যাবে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র নিত্য নতুন সংকট সৃষ্টি করবে। আর সব কিছুর সমাধানের ফর্মুলা জানা নেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বা বলা যায় সামর্থ নেই. যাহোক আমরা যারা প্রবাস থেকে এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহায়তা করতে চাই আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে.
শেষ করবো কিছু হতাশা দিয়ে। দেশের বিদ্যমান অবস্থায় সংগ্রামী ছাত্র সমাজের বিশাল অংশ কিন্তু বিচলিত হয়ে পড়ছে। কিছু রাজনৈতিক দলের মধ্যেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। ঘুষ দুর্নীতিতে লাগাম টেনে ধরায় সরকারি অফিস গুলোতে গা ছাড়া ভাব. কেউ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে না.
ঢাকা বিশ্ববিদ্দালয়ে যা ঘটেছে সেটি দেখে দেশ বিদেশে থাকা আমার ঢাবি বন্ধুরা লজ্জিত হয়েছে। আমি ঈশান কোনে মেঘ দেখতে পাচ্ছি। অচিরেই ফিরে যাবো। কিন্তু যাবার আগে স্থিরতা আসার মত শুভ লক্ষণ দেখছি না.

Want your business to be the top-listed Furniture Store in Cumilla?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Cumilla