20/02/2026
৩০ দিন রোজা রখার পর যদি আপনার বা আমার একটাও রোজা কবুল হয়নি!
ভাবুন তো—
টানা ৩০ দিন রোজা রাখলেন।
প্রতিদিন ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় না খেয়ে থাকলেন।
গরমে, তৃষ্ণায়, ক্লান্তিতে কষ্ট করলেন।
গোপনেও কিছু খেলেন না।
শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় ধৈর্য ধরে সহ্য করলেন সব।
কিন্তু মাস শেষে যদি জানার সুযোগ থাকত—
আর আপনি জানতে পারলেন, আপনার একটি রোজাও কবুল হয়নি—
তখন কেমন লাগবে?
রোজা রেখেছেন, কিন্তু সওয়াব পাননি।
বিনিময়ে শুধু ক্ষুধা আর তৃষ্ণাই পেয়েছেন—এর চেয়ে ভয়ংকর ক্ষতি আর কী হতে পারে?
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“অনেক রোজাদার আছে, যাদের রোজা থেকে প্রাপ্তি শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছাড়া কিছুই নয়।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৯০)
কেন এমন হয়?
রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেন—
“যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও মিথ্যার ওপর আমল করা বর্জন করেনি, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।”
(সহিহ বুখারী: ১৯০৩)
অর্থাৎ, রোজা শুধু না খেয়ে থাকার নাম নয়।
রোজা হলো—চরিত্রের পরিশুদ্ধি, আত্মসংযমের শিক্ষা, নৈতিকতার চর্চা।
রোজার প্রকৃত অর্থ পেতে হলে—
মিথ্যা ছাড়তে হবে,
গীবত বন্ধ করতে হবে,
গালি, ঝগড়া, হিংসা, অহংকার ত্যাগ করতে হবে,
অন্যায়ের পথ থেকে ফিরে আসতে হবে।
অথচ বাস্তবে আমরা কী করি?
বাসায় এসে সামান্য অগোছালো দেখলেই রাগারাগি।
স্ত্রীকে বকা, সন্তানকে ধমক।
রিকশাভাড়া নিয়ে ঝগড়া।
বন্ধুদের আড্ডায় বসে গীবত।
রোজা রেখেও মিথ্যা বলা, ধোঁকা দেওয়া, হারাম উপার্জন।
আমরা ভাবি—আমরা রোজা রাখছি।
কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ বলছেন—এই রোজার আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।
তাহলে কীভাবে রোজা হবে পূর্ণাঙ্গ?
👉 নিজের চরিত্র বদলাতে হবে।
👉 অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে।
👉 সত্যবাদী, ধৈর্যশীল ও সচ্চরিত্রবান হতে হবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সুন্দর করেছে, আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে একটি ঘরের দায়িত্ব নিয়েছি।”
(সুনানে আবু দাউদ: ৪৮০০)
চলুন, এই রমাদানে শুধু না খেয়ে থাকি না—নিজেকে বদলাই।
শেয়ার প্লিজ।
সংগ্রীহিত।
#রমজান #রোজা
24/12/2025
14/08/2025
14/08/2025