19/10/2026
পৃথিবীর যেকোনো দেশেই ক্ষমতাসীনদের দিকেই সমালোচনার তীর সবচেয়ে বেশি তাক করা থাকে—এটাই স্বাভাবিক। তবে এই সরকার নিজেকে শুধু ‘ক্ষমতাসীন দল’ না ভেবে দেশ পরিচালনার ‘দায়িত্ব পালনকারী’ হিসেবে দাবি করে! আর সেই দাবির যথার্থতা প্রমাণ হয় যখন দেখা যায়, ক্ষমতাকে চার দেয়ালে বন্দি না রেখে সাধারণ মানুষের মেধার জন্য রাষ্ট্রের দুয়ার খুলে দেওয়া হচ্ছে।
অনেক কাজের ভিড়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সাম্প্রতিক একটি চমৎকার উদ্যোগের কথাই ধরা যাক। দেশের গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর ও বহুল প্রতীক্ষিত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর জন্য তিনি ডেকেছেন জাতীয় ‘ই-হেলথ হ্যাকাথন ও সিম্পোজিয়াম’।
হ্যাকাথন শব্দটা হয়তো অনেকের কাছে প্রযুক্তিগত মনে হতে পারে, কিন্তু সহজ কথায় এটি হলো একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা—যেখানে একটি নির্দিষ্ট জাতীয় সংকট বা চ্যালেঞ্জ সমাধানের জন্য উদ্ভাবনী সব আইডিয়া আহ্বান করা হয়। মন্ত্রী খুব স্পষ্ট করে বলেছেন, দারুণ কোনো উদ্ভাবনী চিন্তা যে কেবল রাজধানীর অভিজাত বৃত্ত থেকেই আসবে—এমন কোনো কথা নেই। পঞ্চগড়, জকিগঞ্জ, রাজশাহী কিংবা রংপুরের প্রত্যন্ত কোনো গ্রামের এক তরুণের মাথায়ও এমন আইডিয়া থাকতে পারে, যা বদলে দিতে পারে পুরো স্বাস্থ্য খাতকে।
সেই মেধাকেই সরকারের নীতিনির্ধারণের টেবিলে টেনে আনতে এই আয়োজন। আপনি ঘরে বসেই অনলাইনে আপনার আইডিয়া জমা দিতে পারবেন; আগামী এক মাস পর্যন্ত চলবে এই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। এরপর সেরা আইডিয়াগুলোকে নিয়ে আয়োজন করা হবে ৩ দিনের একটি নিবিড় ‘বুট ক্যাম্প’। সহজ ভাষায় বুট ক্যাম্প হলো এমন এক প্রশিক্ষণ ও গ্রুমিং কর্মশালা, যেখানে দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আপনার কাঁচা আইডিয়াটিকে ধরে ধরে ঘষেমেজে একদম বাস্তবায়নের উপযোগী করে গড়ে তুলবেন।
এখানে কোনো দলের পরিচয় নেই, তদবিরের সুযোগ নেই; মেধা, যুক্তি আর যোগ্যতাই এখানে শেষ কথা। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আট মাসের মাথায় তরুণদের মেধা তুলে আনার উদ্যোগ এবং নীতিনির্ধারণকে এমন স্বচ্ছ ও সর্বজনীন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার সংস্কৃতি অতীতে কতটা দেখা গেছে, আমার মনে নেই।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এই মেধাভিত্তিক ও সময়োপযোগী আহ্বান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার!
কীভাবে এবং কোথায় অংশ নেবেন?
উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে, যার স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন পার্টনার হিসেবে কাজ করছে এডিএন টেলিকম (ADN Telecom)।
অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন: হ্যাকাথনের নির্ধারিত অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে সরাসরি আবেদন করা যাবে। https://ehealthhackathonbd.org/
ক্যাটাগরিভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন: শুধু দেশের ভেতরেই নয়, দেশের বাইরে থেকেও অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। সাইটে প্রবেশ করে তিনটি ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে:
১. প্রতিযোগী হিসেবে (Register as Participant): উদ্ভাবনী আইডিয়া বা সমাধান জমা দেওয়ার জন্য।
২. দর্শক হিসেবে (Register as Visitor): আয়োজনটি দেখার ও জানার জন্য।
৩. প্রদর্শনকারী হিসেবে (Register as Exhibitor): স্বাস্থ্য প্রযুক্তি বা উদ্ভাবন তুলে ধরার জন্য।
মূল ইভেন্টের তারিখ: চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা ও সিম্পোজিয়ামটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩–৫ ডিসেম্বর ২০২৬।
ভেন্যু: অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মে দ্রুতই ভেন্যুর নাম ঘোষণা করা হবে।