12/02/2016
পিরামিড
পিরামিড পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তম আশ্চর্যের একটি। পৃথিবীর সব মানুষের কাছেই এটি অত্যন্ত আশ্চর্যকর জিনিষ। কত রহস্য আর ইতিহাস এই সব স্থাপনাকে কেন্দ্র করে রয়েছে তা বলে শেষ করবার মত নয়। পিরামিডে প্রাচীন মিশরের রাজবংশীয়দের মৃতদেহ আজও মমি করে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আর আমাদের এই সপ্তাহের আয়োজনের উদ্দেশ্য এই পিরামিডের কিছু দিক এবং মমি করবার পদ্ধতি তুলে ধরা।
Pyramids of Egypt:
২০০৮ সাল পর্যন্ত মিশরে ১৩৮টি পিরামিড আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলির অধিকাংশই নির্মিত হয় প্রাচীন ও মধ্যকালীন ফ্যারাওদের রাজত্বকালে তাঁদের ও তাঁদের পত্নীদের সমাধিসৌধ হিসেবে। মিশরের প্রাচীনতম পিরামিডগুলি আবিষ্কৃত হয়েছে মেমফিসের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত সাক্কারায়। এগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরনোটি হল তৃতীয় রাজবংশের রাজত্বকালে নির্মিত জোসারের পিরামিড (নির্মাণকাল খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৩০-২৬১১ অব্দ)। -স্থপতি ইমহোটেপ এই পিরামিড ও পিরামিড-সংলগ্ন চত্বরের নকশা প্রস্তুত করেছিলেন। সাধারণভাবে এটিকেই বিশ্বের প্রাচীনতম মসৃণ প্রস্তরনির্মিত স্থাপনা মনে করা হয়। মিশরীয় পিরামিডগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত পিরামিডগুলি দেখা যায় কায়রো শহরের উপকণ্ঠে গিজায়। গিজার বেশ কয়েকটি স্থাপনাকে বিশ্বের অন্যতম বৃহদাকার স্থাপনা বলে মনে করা হয়। গিজায় অবস্থিত খুফুর পিরামিড মিশরীয় পিরামিডগুলির মধ্যে বৃহত্তম। প্রাচীন বিশ্বের সাতটি আশ্চর্য বস্তুর মধ্যে পরিগণিত স্থাপনাগুলির মধ্যে এটিই একমাত্র অদ্যাবধি বিদ্যমান। প্রথম দিকের ইতিহাস অনুসারে মিশরীয় রাজবংশের মানুষদের মৃত্যুর পরে বেঞ্চ-এর মত কাঠামোতে চিরশায়িত করা হত। পরবর্তীতে তাঁরা পিরামিডের ন্যায় বৃহৎ স্থাপনার প্রবর্তন করে।
Great Pyramid of Giza:
গিজার মহা পিরামিড বা খুফুর পিরামিড গিজার সমাধি ক্ষেত্রের তিনটি পিরামিডের মধ্যে সবচাইতে পুরাতন এবং বড়। এটি বর্তমান মিসরের এল গিজা নামক স্থানের কাছে অবস্থিত। এর প্রাচীন নাম খুফু'র দিগন্ত স্থানাঙ্ক ২৯°৫৮′৪৫.০৩″ উত্তর এবং ৩১°০৮′০৩.৬৯″ পূর্ব। এর উচ্চতা ১৪৬.৫ মিটার বা ৪৮১ ফুট। এটি ২৫৬০–২৫৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নির্মিত হয় (প্রায় ৫০০০ বছর আগে!!!)। এটি ৭৫৫ বর্গফুট জমির উপর স্থাপিত। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০ বছর এবং শ্রমিক খেটেছিল আনুমানিক ১ লাখ। পিরামিডটি তৈরি করা হয়েছিল বিশাল বিশাল পাথর খন্ড দিয়ে। পাথর খন্ডের এক একটির ওজন ছিল প্রায় ৬০ টন, আর দৈর্ঘ্য ছিল ৩০ থেকে ৪০ ফুটের মত। এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল দূর দুরান্তের পাহাড় থেকে। পাথরের সাথে পাথর জোড়া দিয়ে পিরামিড তৈরি করা হত। চার হাজারের বছরের পুরানো এক সমাধিতে অংকিত এক চিত্রে দেখা যায় এক বিশাল স্তম্ভকে স্লেজে করে সরানো হচ্ছে; অনেক মানুষ রশি দিয়ে সেই স্লেজ টেনে নিচ্ছে। আর তাদের মধ্যে একজন পাত্র থেকে জল ঢালছে বালির উপরে। এতে ঘর্ষণ প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। এভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আড়াই টন ওজনের এক একটা ব্লক।
ফারাওঃ
ফারাও (ˈfeɪ.roʊ, fɛr.oʊ বা fær.oʊ) হলো গ্রিক-রোমান কর্তৃক বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন মিশরীয় রাজবংশের রাজাদের প্রচলিত উপাধি। এই উপাধি বা নামের উৎপত্তি ঘটেছে মিশরীয় শব্দ pr ˤ3 থেকে, আক্ষরিক অর্থে "মহান নিবাস", যা রাজকীয় প্রাসাদের বর্ণনা দিয়ে থাকে। ঐতিহাসিকভাবে, যদিও, "ফারাও" নামটি শুধুমাত্র নতুন রাজ্যের সময়কালে রাজদের জন্য একটি নাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো, বিশেষভাবে অষ্টাদশ রাজবংশের মধ্যবর্তী সময়ে, হাতশেপসুত রাজত্বের পরবর্তীকালে।
প্রাচীন মিশরের নতুন রাজ্যের সময় ফেরাউনরা ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক নেতা ছিল। "বড় বাড়ি" বলতে তখন রাজাদের বাড়িকে বোঝানো হত কিন্তু মিশরীয় ইতিহাসের গতিপথের সাথে সাথে তা হারাতে বসে ছিল এমনকি রাজা, nswt এর জন্য ঐতিহ্যবাহী মিশরীয় শব্দের পরস্পরিক পরিবর্তনে মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছিল। যদিও মিশরের শাসকরা সাধারণত পুরুষ ছিল, ফেরাউন শব্দটা বিরলভাবে মহিলা শাসকদের হ্মেত্রেও ব্যবহার করা হত। ফেরাউনরা বিশ্বাস করত যে দেবতা হরুসের সাথে জীবনের দেহযুক্ত সমস্ত মিশরের পৌরাণিক শাসক এবং ওসিরিসের মৃত্যুতে। এরা নিজেদেরকে সূর্যের বংশধর মনে করত। নিজেদেরকে দেবতা বলে মনে করায় তারা বংশের বাইরে কাউকে বিবাহ করত না। ফলে ভাইবোনেদের মধ্যেই বিবাহ সম্পন্ন হত।
পিরামিড তৈরির কারণঃ
প্রাচীনকালে মিশরীয়রা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতো যে, মৃত্যুর পরও তাদের আত্মা বেঁচে থাকে। কাজেই পরবর্তী জীবনে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, জীবনটাকে যাতে উপভোগ করা যায়, সে চিন্তায় মিশরীয়রা অস্থির থাকতো। ব্যক্তির গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে গুরুত্ব আরোপ করা হতো এ ব্যাপারে। ব্যক্তি যতো গুরুত্বপূর্ণ হতো এ কাজে গুরুত্ব ততো বেশি বেড়ে যেতো। পরবর্তী জীবনের আরাম-আয়েশের জন্য স্বভাবতই ফারাওদের ব্যাপারেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিলো। ক্ষমতায় আসা নতুন ফারাওয়ের প্রথম কাজ সম্পন্ন করা। প্রত্যেকেই চাইতেন বিশাল আয়তনের হোক তার সমাধিক্ষেত্র। অনেকেই মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত সমাধিক্ষেত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যেত। এসব সমাধিক্ষেত্র আসলে মৃতের আত্মার ঘর। মিশরীয়রা মনে করত, লাশ বা মৃতদেহ টিকে থাকার ওপরই নির্ভর করে আত্মার বেঁচে থাকা বা ফিরে আসা। এ কারণেই মৃতদেহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মমি করতো তারা। আত্মার বেঁচে থাকার জন্য চাই প্রয়োজনীয় নানা জিনিষ। তাই নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বিশেষ করে খাবার-দাবার মৃতদেহের সাথে দিয়ে দিতো তারা। সমাধিস্তম্ভ প্রধানের দায়িত্ব ছিলো দস্যুদের হাত থেকে মৃতদেহ আর তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র রক্ষা করার। কিন্তু কবরে সমাধিত ব্যক্তিটি কত বিপুল পরিমাণ বিত্ত আর ক্ষমতাবান ছিল তা জাহিরের উদ্দেশ্যেও নির্মাণ করা হতো পিরামিড। তাই ফারাওদের মৃতদেহের সাথে কবরস্থ করা হতো বিপুল ধন-সম্পদ। সমাজের বিত্তশালীদের কবরেও মূল্যবানসামগ্রী দেয়া হতো। এমনকি, নিন্মশ্রেণীর মানুষদের কবরেও সামান্য পরিমাণ হলেও কিছু খাবার রেখে দেয়া হতো।
মমি:
মমি হলো একটি মৃতদেহ যা জীবের শরীরের নরম কোষসমষ্টিকে জলবায়ু (বায়ুর অভাব অথবা অনাবৃষ্টি অথবা মৌসুমীয় অবস্থা) এবং ইচ্ছাকৃত কারণ (বিশেষ দাফন প্রথাগুলো) থেকে রহ্মা করে। অন্যভাবে বলা যায়, মমি হলো একটি মৃতদেহ যা মানবিক প্রযুক্তির মধ্যে অথবা প্রাকৃতিকভাবে ধ্বংস এবং হ্ময়প্রাপ্ত হওয়া থেকে রহ্মা করে। মমি শব্দটি মধ্যে যুগের লাতিন শব্দ mumia থেকে এসেছে, যা আরবী শব্দ মুমিয়া (مومياء) এবং পারস্য ফার্সি ভাষা মোম (موم) থেকে আনা হয়েছে যার অর্থ হলো বিটুমিন। অধিকাংশ গবেষকের মতে, মমির উৎপত্তিস্থল হলো প্রাচীন মিশর। তবে গ্রহণযোগ্য সূত্রে জানা যায় যে, প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতারও এক হাজার বছর পূর্বে উত্তর চিলি এবং দক্ষিণ পেরুর চিনচেরাতে মমির সংস্কৃতি চালু হয়। ওই অঞ্চলের আধিবাসীরা সমুদ্রের মাছ খেয়ে জীবনযাপন করত। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে তাদের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
মমি তৈরির পদ্ধতি:
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে প্রাচীন মিশরীয়রা মমি তৈরির একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বের করেন। কয়েকটি ধাপে এই মমি বানানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হতো। প্রথমে মৃতব্যক্তির নাকের মাঝে ছিদ্র করে মাথার ঘিলু ও মগজ বের করা হতো। এ ক্ষেত্রে লোহা জাতীয় জিনিসের সহায়তা নেয়া হতো। তারপর মৃতদেহের পেটের বাম পাশে কেটে ভেতরের নাড়িভুড়ি বের করে ফেলা হতো। এরপর শরীরের বিভিন্ন পচনশীল অঙ্গ যেমন: ফুসফুস, বৃক্ক, পাকস্থলি ইত্যাদি বের করা হতো। এসব অঙ্গ বের করার পর আবার পেট সেলাই করে দেয়া হতো। এক্ষেত্রে তারা খুব সতর্কতা অবলম্বন করতো। কারণ পেট সেলাই করতে গিয়ে যদি পেটের ভেতর বাতাস ঢুকে যায়, তাহলে মৃতদেহ পচে যাওয়ার আশঙ্কা ছিলো। অতঃপর মৃতদেহ ও বের করা অঙ্গগুলোতে লবণ মেখে শুকানো হতো। যখন সব ভালোভাবে শুকিয়ে যেতো, তখন গামলা গাইন গাছের পদার্থ ও বিভিন্ন প্রকার মসলা মেখে রেখে দেওয়া হতো। চল্লিশ দিন পর লিনেনের কাপড় দ্বারা পুরো শরীর পেঁচিয়ে ফেলা হতো। এরপর তারা মমিগুলোকে সংরক্ষণ করে রাখতো।
এই পৃথিবীর যেসব অমীমাংসিত রহস্য রয়েছে তার মধ্যে পিরামিড অন্যতম। পৃথিবী তার কিছু রহস্য হয়ত সারাজীবন গোপন রাখতে চায়। তার মধ্যে পিরামিডও একটি। আমার আপনার মতো হাজারও মানুষ হয়ত ভবিষ্যতে এই পিরামিডের নির্মাণশৈলী দেখে অবাক হবে আর ভাববে মানুষ চাইলে কিই না করতে পারে!!!-ধন্যবাদ সবাইকে। :)
বিনীতঃ #শুভ্র_হাসান
28/08/2014
দ্বিতীয় কিস্তি
বজ্রপাতের রহস্য উন্মোচন
বজ্রপাত প্রকৃতির এক নৈসর্গিক রহস্য-যার উন্মাদনা আমাদের মনে এনে দেয় গভীর প্রশস্তি। আমাদের চোখে সকল বজ্রপাত এক রকম হলেও আসলে কিন্তু তাদের মাঝেও রয়েছে রূপভেদ। গত সপ্তাহে আমাদের Article-এ সেই প্রকারভেদ গুলোর কিছু অংশ তুলে ধরা হয়েছিল; আর আজ আমরা হাজির হয়েছি তার পরবর্তী অংশ নিয়ে। তাহলে পাঠক চলুন হারিয়ে যাই এই ভয়ংকর সৌন্দর্যের সন্ধানে।
ELVES; Mysterious Halos:
এই বজ্রপাতগুলো দেখতে খুবই সুন্দর এবং রহস্যময়। এদের বর্ণ লালচে। এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচাইতে কম। এরা মূলত অনুভূমিকভাবে সংগঠিত হয় অর্থাৎ অনুভূমিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই বজ্রপাতের উৎস পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একেবারে শেষ প্রান্ত। এর অর্থ হলো এই বজ্রপাত সংঘটন স্থান মহাকাশের প্রান্তসীমায়। ELVES-কে মনে করা হয় অত্যন্ত শক্তিশালী তাড়িতচুম্বকীয় বিকিরণ। এই বজ্রপাতের ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি বিকিরিত হয়। এই বিপুল শক্তিপ্রাপ্তির অন্যতম কারণ হলো এর সংগঠন স্থান। এই বজ্রপাত পৃথিবীর সর্বশেষ স্তর অর্থাৎ আয়নমণ্ডলে ঘটে। আমরা জানি, আয়নমণ্ডল অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং এখানে গ্যাসের অণুগুলো আয়নিত অবস্থায় অর্থাৎ Plasma State-এ থাকে। এই প্লাজমাই ELVES-কে এতটা শক্তি যোগায়।
এরা SPRITES’র ন্যায় উজ্জ্বল হয়। কিন্তু এদের স্থায়িত্ব খুবই কম। মাত্র ১ মিলিসেকেন্ড স্থায়ী এই বজ্রপাত এতটাই শক্তিশালী যে, ভূপৃষ্ঠ থেকেও এদের খালী চোখে দেখা যায়। এদের অনুভূমিক বিস্তার 300 কিলোমিটার (185 মাইল) পর্যন্ত হতে পারে। এই বজ্রপাত সর্বপ্রথম পর্যবেক্ষণ করা হয় একটি Space Shuttle থেকে ১৯৯০ সালে। Space Shuttle থেকে French Guiana উপকূল হতে 100 কিলোমিটার (62 মাইল) দূরে এটি দেখতে পাওয়া যায়।
Blue Jets; EERIE, Brief Dances of Light:
এই বজ্রপাত হলো নীল বর্ণের। এর আকৃতি অনেকটা Jet Plane’র মত। তাই একে ‘Blue Jets’ বলা হয়। এই বজ্রপাতের সংঘটন স্থান ভূমি হতে 40-50 কিলোমিটার (30 মাইল) উপরে। প্রচণ্ড শক্তিশালী এই বজ্রপাত ভূমিতে আঘাত করে প্রায় 100 kmph বেগে। এই বজ্রপাত খালিচোখে দেখা যায়। এর ঔজ্জ্বল্য Sprites-এর থেকে বেশি। কিন্তু এদের স্থায়িত্ব খুব কম। এদের মাত্র ০.০৬৭ সেকেন্ডের জন্য দেখা যায়। Blue Jets বজ্রপাত পুরো আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বৃহদাকার কোণকের ন্যায়।
Positive Lightning; The Other Way Around:
আমরা এতক্ষণ যে সকল বজ্রপাত সম্পর্কে আলোচনা করেছি সেগুলোর সবগুলোর উৎস ছিল ঋণাত্মক আয়নের প্রাধান্য। কিন্তু এই Positive Lightning হলো এদের সম্পূর্ণ বিপরীত। অন্যান্য বজ্রপাতগুলো ইলেকট্রনের প্রভাবে ঘটে থাকলেও এটি হয় ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট প্রোটনের প্রভাবে। এই বজ্রপাতের ফলে সৃষ্ট বিদ্যুতের প্রবাহমাত্রা 3,00,000 A!!! এই বজ্রপাত সাধারণ বজ্রপাত থেকে প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এই বজ্রপাত কিভাবে সংগঠিত হয় তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
সৃষ্টির সূচনালগ্ন হতে মানুষ বজ্রপাতের সাথে অত্যন্ত সুপরিচিত। তারা সেই আদিকাল হতে চেষ্টা করে আসছে বজ্রপাতের রহস্যভেদ করার। রয়েছে কিছুটা সাফল্য আর অনেকটাই ব্যর্থতা। মানুষ অদূরভবিষ্যতে জানতে পারবে আরও অনেক বেশি।
বিনীতঃ শুভ্র_হাসান
16/08/2014
বজ্রপাতের রহস্য উন্মোচন
মেঘের দেশে ভেসে বেড়ানোর কল্পনায় মগ্ন থাকতে কার না ভাল লাগে। আর যখন বর্ষার বৃষ্টিস্নাত পরিবেশে বিজলী কন্যার নৃত্য দেখা যায়-নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। কিন্তু আমরা এই বজ্রপাত সম্পর্কে খুবই কম জানি। বিজ্ঞানীদের কাছেও ব্যাপারটি এখনও রহস্যাবৃত। এই বজ্রপাতের কারণ আর এ বিষয়ে নানা তথ্য নিয়েই আমাদের এই সপ্তাহের মূল Feature।
The LIGHTNING:
Lightning বা বজ্রপাত বলতে যে দৃশ্য আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে তা হলো চোখ ঝলকানো এক ঝলক আলো; এরপর গগণবিদারী শব্দ। অনেক সময় এই বজ্রপাত আমাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর কারণ হয়। এর কারণ হলো বজ্রপাত আসলে উচ্চবিভবের বৈদ্যুতিক প্রবাহ। সাধারণত বজ্রপাতে সৃষ্ট বিদ্যুতের বিভব 4,00,000-10,00,00,000 পর্যন্ত হতে পারে। বজ্রপাত 3,60,500 km/h (2,24,000 mph) বেগে ভূমিতে এসে আঘাত করতে পারে এবং এর তাপমাত্রা 30,000 Degree Celsius পর্যন্ত হতে পারে। মেঘে উৎপন্ন বিদ্যুৎ আর আমাদের ঘরের বাতি জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ আসলে কিন্তু একই। শুধু প্রাকৃতিক বিদ্যুতের ক্ষমতা অনেক বেশি। অথচ মজার ব্যাপার হলো আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগেও এই দুই বিদ্যুৎকে আলাদা ভাবা হত। ১৭৫২ সালে বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন (Benjamin Franklin) প্রমান করেন যে, এই দুই বিদ্যুৎ একই। বিদ্যুতের প্রকৃতি আবিষ্কৃত হলো কিন্তু বজ্রপাতের কারণ আমাদের অজানাই থেকে গেলো। তা আবিষ্কৃত হয় আরও পরে।
বজ্রপাতের কারণঃ
আসলে বজ্রপাতের কারণ অনুসন্ধান এবং বজ্রপাত নিয়ে গবেষণা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কারণ ঠিক কখন কোন স্থানে বজ্রপাত হবে তা সঠিকভাবে অনুমান করা সম্ভব নয়। তাই গবেষকগণ এখনও বজ্রপাতের কারণ সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে পারেন নি। তবে তাঁরা অনুমানের উপর ভিত্তি করে অনেকগুলো তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছেন। এর মধ্যে দুইটি তত্ত্ব বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
প্রথম তত্ত্বটি হলো Ice-crystal Theory। এই তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন Florida Institute of Technology’র বজ্রপাত গবেষক Joseph Dwyer। এটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এই তত্ত্ব অনুসারে, বজ্রপাত সংঘটিত হয়, মেঘের ভিতরে থাকা জলকণা এবং বরফকণার উপস্থিতির জন্য। মেঘগুলো যখন আকাশে ভেসে বেড়ায় তখন মেঘের ভেতরে থাকা বরফকণা এবং জলকণার ভেতর সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের ফলে পানিকণার ইলেকট্রন বরফের গায়ে এসে জমা হয়। ফলে বরফ ঋণাত্মক চার্জে এবং জলকণা ধনাত্মক চার্জে আহিত হয়। ঝড়ের সময় মেঘের উপরিপৃষ্ঠের নিকটে তড়িৎক্ষেত্রের উদ্ভব হয় এবং তা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক ক্ষরণের সৃষ্টি করে। এই পৃথক পৃথক বৈদ্যুতিক ক্ষরণ একত্রে মিলিত হয়ে বজ্রপাতের জন্ম দেয়।
অপর আরেকটি মতবাদের প্রবক্তা হলেন, Cardiff University-তে অবস্থিত The Morgan-Botti Lightning Laboratory’র গবেষক Chris Stone। তাঁর তত্ত্বের নাম হলো Electron Runway Breakdown। এটি সম্পূর্ণ নতুন Physical Theory। এই তত্ত্ব মতে, বৈদ্যুতিক ক্ষরণ হয় উচ্চশক্তি সমৃদ্ধ Cosmic Ray’র বিকিরণের ফলে। Cosmic Ray’র দরুন পরমাণুর অভ্যন্তরে থাকা প্রোটনগুলো বিস্ফোরিত হয় ঠিক যেমনটি ঘটে Super Nova বিস্ফোরণের সময় নক্ষত্রের ক্ষেত্রে। মহাজাগতিক Cosmic Ray সমূহ মহাকাশে বিচরণ করে এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত করে। ফলে উচ্চ গতিসম্পন্ন আয়নিত কণার সৃষ্টি হয় যাদের বেগ প্রায় আলোর বেগের কাছাকাছি। এই আয়নিত কণাই পরবর্তীতে বজ্রপাতের সংঘটন করে।
বিনীতঃ শুভ্র_হাসান continuing part-2
16/08/2014
part-2 of বজ্রপাতের রহস্য উন্মোচন
বিভিন্ন রকমের বজ্রপাত!!!
আমাদের কাছে সকল বজ্রপাতই এক রকমের মনে হয়। কিন্তু আমরা কি জানি এই বজ্রপাতেরও আবার রকমফের আছে!!! হ্যাঁ পাঠক, আশ্চর্য হলেও সত্য এই যে, এই বজ্রপাতের প্রকারভেদ রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো সম্পর্কে।
Ball Lightning: Flying Spheres
এই অদ্ভুত বজ্রপাতগুলোর আকৃতি অনেকটা গোলকের মত। এদের বর্ণ হলুদ, লাল, কমলা, বেগুনী অথবা সবুজ রঙের হতে পারে। এই বজ্রপাতের একটা আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে আর তা হলো এটি কাঁচ ভেদ করে একপাশ থেকে অপর পাশে যেতে পারে অথচ কাঁচের দেওয়ালে কোন গর্তের সৃষ্টি হয় না! এই Ball Lightning এর স্থায়িত্বকাল ১.৬ সেকেন্ড মাত্র আর এই গোলকের ব্যাসার্ধ প্রায় ৫ মিটার। University of Florida’র বজ্রপাত গবেষক Martin Uman এই বজ্রপাতের বর্ণালী বিশ্লেষণ করেন। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায় যে, এই ধরনের বজ্রপাতে Silicon, Iron, Calcium ও আরও কিছু পদার্থ পাওয়া যায়; যা মাটির উপাদান। এটি থেকে একথা পরিষ্কার হয় যে, এই ধরনের বজ্রপাতের উৎস হলো ভূমি হতে বাষ্পীভূত পানি। কিন্তু কিভাবে এটি বর্তুলাকৃতি ধারণ করে তা জানা সম্ভব হয়নি।
Dark Lightning: Invisible & Powerful
সকল বজ্রপাতই দৃশ্যমান নয়; কিছু কিছু বজ্রপাত রয়েছে যা শুধুমাত্র উচ্চগতি সম্পন্ন শক্তিশালি তরঙ্গের বিকিরণ। শক্তির এই উচ্চ বিকিরণকে বলা হয় Terrestrial Gamma-Ray Flashes (TGFs)। এই রকম বিকিরণ মহাকাশে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে যখন নক্ষত্রের ভাঙন হয়। একটা TGF বিকিরণ সাধারণ বিকিরণের তুলনায় দশ লক্ষ গুণ বেশি শক্তিশালী। Florida Institute of Technology’র Joseph Dwyer বলেন, প্রতি ১,০০০ বজ্রপাতে একটা Dark Lightning দেখা যায়; কিন্তু এর সঠিক সংখ্যা এখনও আমাদের অজানা।
Sprites: Glowing Red Jellyfish
এই ধরনের বজ্রপাত বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে, একেবারে প্রায় মহাশূন্যের প্রান্ত সীমায় সংঘটিত হয়। এদের বলা হয় Transient Luminous Events (TLEs)। বিজ্ঞানীরা TLEs’র কারণ সম্পর্কে এখনও অজ্ঞাত। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটা বিকিরণ প্লাজমার তড়িৎ আবেশিত রূপ। সাধারণ TLEs’র রং হয় উজ্জ্বল লাল বর্ণের। এটি দেখতে উজ্জ্বল লাল বর্ণের Jellyfish’র ন্যায়। এটি সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৯ সালে। পরবর্তীতে Space Shuttle’র বিজ্ঞানীগণ এটির ভিডিও চিত্র ধারণ করেন। এর স্থায়িত্বকাল মাত্র ১ সেকেন্ড।
এছাড়া Blue Jets, Elves, Positive Lightning সহ আরও নানা ধরনের বজ্রপাত রয়েছে-যেগুলো নিয়ে ইনশাআল্লাহ আমরা হাজির হব আগামী সপ্তাহে।
প্রকৃতির এক আদিম আর প্রাচীন রহস্য হলো বজ্রপাত। আদিম কালে মানুষ যখন পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালাতে জানত না তখন তাদের আগুনের উৎস ছিল এটি। সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ হতে মানুষ জানার চেষ্টা করছে এই বজ্রপাতের রহস্য; হয়ত উন্মোচন করতে পেরেছে কিছুটা; হয়ত বাকিটা উন্মোচিত হবে অদূর ভবিষ্যতে। সেটাই শুভকামনা।
বিনীতঃ শুভ্র_হাসান
(আগামী পর্বে সমাপ্ত)
22/07/2014
Blue Brain; Human Brain in a Supercomputer:
মানুষের মস্তিষ্ক হলো একটি অত্যাশ্চার্য বিষয়। আজকের এই বিজ্ঞানের চরম উন্নতির যুগেও এ সম্পর্কে অনেক কিছুই আমাদের অজানা। মানবমস্তিষ্ক এক বিশেষ ধরনের অবিভাজ্য কোষ দ্বারা গঠিত যার নাম Neuron Cell । মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন Neuron Cell থাকে যেগুলো Synapses দ্বারা পরস্পরের সাথে সংযুক্ত। ক্ষুদ্র ইঁদুর হতে শুরু করে মানবমস্তিষ্ক-সবখানেই এই কোষের জটিল জাল বিস্তৃত। যত উচ্চশ্রেণির জীবের ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়া যায়-এই জটিলতা বরং বাড়ে। তবে আমাদের মস্তিস্কের একটি প্রধান অসুবিধা হল-অর্জিত জ্ঞান আমাদের মৃত্যুর সাথে সাথে এই পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যায়। The BLUE BRAIN Project-এই সমস্যার একটি চমৎকার সমাধান হতে পারে।
What is Blue Brain?
Blue Brain হলো পৃথিবীর সর্বপ্রথম Virtual Brain। এই Project’র উদ্দেশ্য হলো Reverse-Engineering প্রক্রিয়ায় স্তন্যপায়ীদের Brain’র Virtual রুপ একটি Supercomputer-এ তৈরি করা। Virtual Brain হলো একটি Artificial Brain যা স্বাভাবিক মস্তিস্কের ন্যায় কাজ করতে পারে, পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সাড়া প্রদান করতে পারে এবং স্মৃতি ধারণ করতে পারে। এই Virtual Model’র সাহায্যে বিজ্ঞানীগণ কোন মানবমস্তিস্কের ক্ষতিসাধন ছাড়াই নানা ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান চালাতে পারবেন।
The BLUE BRAIN Project’র অগ্রযাত্রা সূচিত হয় ২০০৫ সালের মে মাসে। Switzerland-এ অবস্থিত Ecole Poly-technique Federale De Lausanne’র Brain & Mind Institute এই প্রকল্পের প্রধান উদ্যোক্তা। এই Project’র পরিচালক হলেন Henry Markram। এই Simulation-গুলো সম্পন্ন করা হয় IBM নির্মিত Blue Gene Supercomputer-এ। আর তাই এই Project’র নামকরণ করা হয়েছে The BLUE BRAIN Project।
যেভাবে কাজ করেঃ
আমাদের নিউরনে অনুভূতিগুলো বৈদ্যুতিক তরঙ্গাকারে প্রবাহিত হয়। আমাদের মস্তিষ্কে অনেকগুলো আয়ন চ্যানেল রয়েছে। নিউরন এই বৈদ্যুতিক সংকেতের প্রবাহ বহন করে চ্যানেলগুলো নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। প্রথমে বিজ্ঞানীগণ যখন এটি তৈরি করেন তখন তাঁরা Natural Data ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে তাঁরা এক বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন- তাঁদের ব্যবহৃত Supercomputer এই Data গ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিল না। তখন তাঁরা Modified Data ব্যবহার করতে শুরু করেন। তাঁরা Genetically Engineered Chinese Hamster O***y Cell হতে Modified Data গ্রহণ করেন। একটি Robot এর মাধ্যমে এই সার্বক্ষণিক ডাটা সংগ্রহের কাজটি করা হয়। পরবর্তীতে এই Data Blue Brain-এ Implant করা হয়। বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ক্ষেত্রে এই মডেল তৈরিতে সফল হয়েছেন। কিন্তু মানবমস্তিষ্ক তৈরি করার জন্য আমাদের হয়ত আরও ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতাওঃ
বিজ্ঞানীরা এখনও এই BLUE BRAIN Project’র সাফল্য নিয়ে সন্দিহান। Salk Institute of Biological Studies’র Terry Senjowski বলেন,“এটি একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প যা ব্যর্থ হতে বাধ্য। মস্তিস্কের একটি বাস্তবসম্মত মডেল তৈরি করার জন্য আমাদের এখনও অনেক কিছু জানার বাকি আছে।” তবে অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন এই মডেলটি তাঁদেরকে এই বিজ্ঞানের রহস্য সম্বন্ধে আরও অনেক কিছু অবহিত করবে; ঠিক Watson ও Crick’র DNA মডেলের মত।
তবে এই Project’র বাস্তবায়ন সহজ নয়। আমাদের মস্তিষ্কে রয়েছে এক ট্রিলিয়নেরও অধিক Synapses, আর 500 Peta bytes Data!!! যা Google’র Main Server-এ সংরক্ষিত তথ্যের ২০০ গুণ!!! এছাড়া এই Simulation Project-এ ব্যবহৃত Microchips-গুলো বার্ষিক $3 billion অর্থ ব্যয় করবে; যা বহন করা খুবই কষ্টসাধ্য।
পরিশেষে বলা যায়, জ্ঞানরাজ্যে মানুষের বিচরণ চিরন্তন। মানুষ প্রতিনিয়ত অজানাকে জানবার উদ্দেশ্যে ছুটে বেড়াচ্ছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের নানা অজানা রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে মানুষের সামনে। এই অর্জিত জ্ঞান ব্যবহৃত হবে শুধুই মানবকল্যাণে-প্রার্থনা শুধু সেটাই।
বিনীতঃ শুভ্র_হাসান
13/07/2014
পৃথিবীতে নতুন সূর্যের সৃষ্টি
Sol Solis, Soliel, Sol, Helios, The SUN; সূর্য। হ্যাঁ পাঠক, আমাদের এবারের Article এই সূর্যকে ঘিরেই। তবে সূর্যের বাহ্যিক দিক নয়, বরং অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে। সম্প্রতি সূর্যের অভ্যন্তরে নিরন্তর ঘটতে থাকা Fusion বিক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীগণ তৈরি করেছেন Fusion Reactor-যা হয়ত অদূর ভবিষ্যতে সৃষ্টি করতে যাচ্ছে Ultimate Power Source’র। আর এ বিষয়ে নানা অজানা তথ্য নিয়েই আমাদের এই সপ্তাহের মূল Feature।
The SUN:
সূর্য হলো আমাদের প্রিয় পৃথিবীর সঞ্জীবনীশক্তি প্রদানকারী নক্ষত্র; যা মূলত একটি বামন নক্ষত্র (Dwarf Star)। এর ভর 1.99E30 kg, ব্যাসার্ধ 6.96E8 m এবং ঘনত্ব 1440 kg/m^3। পৃথিবী থেকে 15 কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই নক্ষত্র আকারে পৃথিবীর তুলনায় 13 লক্ষ গুণ বড়।
আমাদের এই মানব সভ্যতা তথা গোটা পৃথিবীর জীবকুলের মূল চালিকাশক্তি আসে সূর্য হতে। এই শক্তি আমরা আলোক ও তাপশক্তিরূপে প্রত্যক্ষভাবে পেয়ে থাকি। এছাড়া গাছপালা এবং Fossil Fuel’র মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এই শক্তি আমরা পাই। এমনকি বায়ু প্রবাহেরও সৃষ্টি হয় এই সূর্যের কারণে!!! সূর্যতাপে পৃথিবীর কোন কোন স্থানের বাতাস উত্তপ্ত এবং হালকা হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। ফলে সেখানে Air Gap’র সৃষ্টি হয়। যার দরুন সেই Low Pressurized অঞ্চলের Gap পূরণ করার জন্য চারপাশ থেকে বাতাস ছুটে আসে ফলে সৃষ্টি হয় বায়ুপ্রবাহের।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রঃ
বর্তমানে আমাদের পৃথিবী অনেকটাই তড়িৎশক্তি নির্ভর। ইতঃপূর্বে আমরা কয়লা, গ্যাস, পানিবিদ্যুৎ এবং Windmill’র মাধ্যমে আমাদের শক্তির চাহিদা মিটিয়েছি। আর বর্তমানে শক্তির সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য উৎস হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি খুব সাশ্রয়ীও বটে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মূলত Fission বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করা হয়। Fission বিক্রিয়া হলো এক ধরনের পারমাণবিক বিক্রিয়া যা তেজস্ক্রিয় মৌলসমূহের মধ্যে ঘটান হয়। এই প্রক্রিয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশি আণবিক ভর বিশিষ্ট তেজস্ক্রিয় মৌলের পরমানুকে ধীরগতিসম্পন্ন নিউট্রন দ্বারা আঘাত করা হয়। এতে করে তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াসটি ভেঙে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং প্রচুর শক্তি নির্গত হয়। ভাঙনের সময় মৌলের কিছু ভর খোয়া যায়। এই খোয়া যাওয়া ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হয়; যার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় Albert Einstein’র বিখ্যাত সূত্র E=mc2 দ্বারা।
কিন্তু এই Fission Reactor কিন্তু মোটেও নিরাপদ নয়। বরং এর রক্ষণাবেক্ষণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এর দ্বারা যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটা সম্ভব। এছাড়া এটি থেকে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয়; যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
সূর্যের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াঃ
সূর্যের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়; Fission নয় বরং Fusion বিক্রিয়ার মাধ্যমে। Fusion বিক্রিয়া হলো নিউক্লিয়াস জোড়া লাগানোর প্রক্রিয়া। অর্থাৎ এর মাধ্যমে কম আণবিক ভর বিশিষ্ট নিউক্লিয়াসকে যুক্ত করে অধিক আণবিক ভর বিশিষ্ট নিউক্লিয়াসে পরিণত করা হয়। এই নিউক্লিয়াসের সংযোগের সময় প্রচুর শক্তি উৎপাদিত হয়। সূর্যের আণবিক শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া এই Fission বিক্রিয়ার মাধ্যমে হয়। সূর্যের মাঝে থাকে হাইড্রোজেন গ্যাসের দুটি নিউক্লিয়াস পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস তৈরি করে। এসময় প্রচুর শক্তি ক্ষরণ হয়; যা সূর্যের শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। Fission বিক্রিয়ায় তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হলেও আশ্চর্যজনকভাবে Fusion বিক্রিয়ায় মোটেও বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় না।
বিনীতঃ #শুভ্র_হাসান continuing in part-2
13/07/2014
part-2 of পৃথিবীতে নতুন সূর্যের সৃষ্টি
The FUSION REACTOR:
গত মাসে (জুন, ২০১৪) France’র Cadarache এবং California’র Livermore-এ দুটি Power Station স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে; যা পরিচালিত হবে Fusion Reaction দ্বারা। এর আগে France তার পরীক্ষামূলক ITER (International Thermonuclear Experimental Reactor)-এ ব্যপক সাফল্য লাভ করছে। অপরদিকে California’র Experimental Reactor NIF (National Ignition Facility)-ও সফল হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে শক্তির সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উৎস হয়ে দাঁড়াবে এই Fusion Reactor।
যেভাবে কাজ করেঃ
এই Reactor’র শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া সূর্যের ন্যায়। এতে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হবে হাইড্রোজেনের দুটি আইসোটোপ; ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম (কোন মৌলের ভিন্ন পারমাণবিক ভরবিশিষ্ট পরামানুকে আইসোটোপ বলে)। এই Reactor-এ দুটি ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম পরমাণুকে পরস্পরের সাথে Fusion বিক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। ফলে তা একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং প্রচুর শক্তি ক্ষরণ করে। এই Reactor’র উত্তপ্ত পরমানুগুলো যেন দেওয়াল হতে দূরে থাকে সেজন্য Quantum Tunneling নামক এক ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এটি একটি চৌম্বকীয় প্রক্রিয়া যার ফলে পরমাণুগুলো চৌম্বকীয় বিকর্ষণের মাধ্যমে দেওয়াল হতে দূরে থাকে।
সুবিধাসমূহঃ
# এর জ্বালানী খুবই সহজলভ্য। যেখানে ইউরেনিয়াম প্রায় দুষ্প্রাপ্য; সেখানে ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম অতি সহজেই বিপুল পরিমানে সমুদ্রের পানি হতে সংগ্রহ করা যায়।
# এর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অত্যন্ত কম। কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে 1GW বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে 10,000 Tonnes কয়লার প্রয়োজন হয়। অথচ Fusion Reactor’র ক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধুমাত্র 1 kg ডিউটেরিয়াম অথবা ট্রিটিয়াম!!!
# এতে কোন তেজস্ক্রিয় জ্বালানী ব্যবহৃত হয় না। তাই এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব।
মানবসমাজ সর্বপ্রথম Fission বিক্রিয়া ব্যবহার করে Atom Bomb তৈরিতে আর Fusion বিক্রিয়া ব্যবহার করে Hydrogen Bomb তৈরিতে!!! যা হলো সভ্যতা ধংসের পন্থা। তবে আসার কথা হল দেরিতে হলেও মানুষ এই আণবিক শক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর কথা ভাবছে। Atomic Power-কে কাজে লাগিয়ে মানব সভ্যতা এগিয়ে যাবে বহুদূর সেটাই শুভকামনা।
বিনীতঃ #শুভ্র_হাসান
05/07/2014
পরিচিত Bubble এর অপরিচিত চেহারাঃ
আমরা সবাই Bubble’র সাথে পরিচিত। আমাদের দৃষ্টিতে সাধারণ হলেও শিশুদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় খেলার মাধ্যম। এর সৌন্দর্য ছাড়া অন্য কোন দিক সম্পর্কে আমরা তাই ভাবতেই পারি না। সম্প্রতি গবেষকরা এর এমন কিছু দিক বের করেছেন যা আমাদের দৃষ্টিতে এই সাধারণ বস্তুটিকে করে তুলবে আরও রহস্যময়। আর এই রহস্যময় Bubble’র নানা অজানা দিক নিয়েই আমাদের এবারের Article।
আমাদের এই চিরপরিচিত Bubble এর ইতিহাস কিন্তু অনেক পুরনো। Unverified C.V. Boys’র বর্ণনানুসারে, সর্বপ্রথম France এর রাজধানী Paris’র Louvre শহরের Etruscan Vase নামক স্থানে Bubble’র ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। 1733 সালে Jean Simeon Chradin নামক একজন চিত্রকর সর্বপ্রথম Soap Bubble’র ছবি আঁকেন।
Bubble রহস্য
আমরা যে বস্তুটিকে শুধুই শিশুদের আনন্দের বিষয় বলে মনে করতাম, বিজ্ঞানীরা তার রহস্যের বেড়াজাল আমাদের সামনে খুলে দিচ্ছেন। আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, এই Bubble আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলছে, গণনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি শিকার ও অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। Boston University’র Mechanical Engineer এবং Bubble Specialist James Bird বলেন, “আমরা যত এর দিকে নজর দেই তত বুঝতে পারি পৃথিবীর গোপন রহস্য আমাদের কাছে কতটা অজানা।”
শিকারের ক্ষেত্রে Bubble
বিজ্ঞানীরা নিরলস গবেষণার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, Mantis Shrimp তার Claw দ্বারা পানিতে দ্রুত আঘাত করতে থাকে। ফলে পানির অণুসমুহ ইতঃস্তত ছোটাছুটি করে। ফলে পানিতে এক ধরনের Low Pressure Pocket সৃষ্টি হয় যা Bubble তৈরি করে। এই Bubble গুলো পরবর্তীতে খুব দ্রুত ফেটে যায় এবং আশেপাশে থাকা শিকারকে লক্ষভ্রষ্ট করে দেয়। ফলে সে সহজেই তার শিকার ধরতে পারে।
সেই শুভ কামনায় #শান্ত_চৌধুরী continue in Part 2
05/07/2014
Part 2 of পরিচিত Bubble এর অপরিচিত চেহারাঃ
অস্ত্র হিসেবে Bubble
Russian বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগামী Torpedo তৈরি করেছেন। এর নাম Shkval Torpedo যার গতিবেগ 230 mph (200 knots)। এখানে তাঁরা Supercavitaion নামক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এই পদ্ধতি অনুসারে Torpedo’র Nose অমসৃণ রাখা হয়। ফলশ্রুতিতে এটি Bubble তৈরি করে এবং Torpedo’র Body’র সাথে পানির সংস্পর্শ এবং ঘর্ষণ হ্রাস পায়। এতে করে Torpedo’র গতি বৃদ্ধি পায়।
Bubble in Computation
বিজ্ঞানীরা Bubble-কে Bit হিসেবে ব্যবহার করে Logic Gate তৈরি করেছেন। এই ব্যবস্থায় Bubble-গুলোকে একটি ধাতব নলের মধ্য দিয়ে চালনা করা হয়। পুরো নলটি একটি বৈদ্যুতিক বর্তনীর ন্যায় আচরণ করে এবং তা Logical Computation-এ সমর্থ হয়।
University College of London’র Helen Czerski বলেন, “Bubble’র প্রভাব সামুদ্রিক প্রাণীদের শ্বাসকার্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।” তিনি প্রমান করছেন যে, সমুদ্রের বৈশিষ্ট্যগত কারণে সৃষ্ট Bubble বাতাসে মিশে গিয়ে লবণ ও সালফারের এক ধরনের Aerosol তৈরি করে। এই Aerosol মেঘ তৈরিতে এবং বৃষ্টিপাত ঘটাতে সহায়তা করে। এছাড়া Bubble সমুদ্রবায়ুকে স্বাস্থ্যকর করে।
আজ যে শিশুটি Bubble নিয়ে খেলছে সে হয়ত জানে না যে এই অনিন্দ্য সুন্দর বস্তুটির কত আশ্চর্যজনক ব্যবহার থাকতে পারে। হয়তবা আমরাও জানতাম না। বিজ্ঞানীদের নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ আমরা এতকিছু জানতে পেরেছি। গবেষকরা এর উপর আরও গবেষণা করে যাচ্ছেন। হতে পারে তাঁরা ভবিষ্যতে এমন কিছু রহস্য উন্মোচন করবেন যা মানব জীবন ও সভ্যতাকে ধাবিত করবে নতুন দিকে।
সেই শুভ কামনায় #শান্ত_চৌধুরী
28/06/2014
The S-2 Aircraft; An airplane that’s need no RUNWAY!!!
আকাশ জয়ের স্বপ্ন মানুষের চিরদিনের। পাখির মত আকাশে উড়তে চাওয়ার বাসনায় প্রাণ দিয়েছেন অগণিত মানুষ। কিন্তু মানুষ থেমে থাকবার নয়। অবশেষে Wright Brothers-দের হাত ধরে বাস্তবরূপ লাভ আকাশ জয়ের বাসনা। কিন্তু বিমান যোগাযোগ আজও নিরাপদ নয়; প্রতি বছর অনেক মানুষ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পরে মারা যায়। সম্প্রতি একজন প্রথিতযশা বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন উড়োজাহাজের একটি উন্নততর Model। আর এ বিষয়েই আমাদের এবারের Feature।
অর্ধেকের বেশি Personal Aircraft Accident হয় Take-off অথবা landing করার সময়। আর এজন্য প্রখ্যাত বিজ্ঞানী Joe Ben Bevirt ডিজাইন করেছেন যুগান্তকারী এক Plane’র। এই Plane’র Take off অথবা Landing’র সময় কোন Runway’র প্রয়োজন হবে না। ৪০ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান বিজ্ঞানীর তৈরি এই Plane হেলিকপ্টারের ন্যায় Vertically Take-off করতে পারে এবং Aerodynamically উড়তে পারে। Joe Ben Bevirt-এর কোম্পানি Joby Aviation এই Plane’র উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। Bevirt এই Plane’র জন্য ২০১৪ সালে Aviation শাখায় American Invention Award পান।
The S-2 Aircraft:
Bevirt এই Electric Plane’র নাম দিয়েছেন S-2 Aircraft। এই Plane’র Full-scale prototype এখনও তৈরি করা হয়নি। তবে Bevirt Demonstration’র জন্য 10-pound’র 24 টি S-2 Aircraft তৈরি করেছেন। তবে NASA সম্প্রতি এই বিষয়ে ব্যপক আগ্রহ প্রদর্শন করছে। NASA এই Plane-এর 55-pound ওজনের Model তৈরি করেছে। এই Model টির দ্বারা NASA একটি Supercomputer’র সাহায্যে Simulation করে। এই Simulation’র Result-এ অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গেছে। এই Simulation অনুযায়ী 1700 pound ওজনের Two-seater full-scale S-2 plane ঘণ্টায় 200 miles অতিক্রম করে New York City থেকে Boston যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ খরচ হবে মাত্র 50 kilowatt!!! যা তৈরি করতে মাত্র 1.5 gallon fuel প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ এতে জ্বালানী খরচ এত কম যা একেবারেই অকল্পনীয়।
Special Features:
# এই Plane-এ 12 টা Motor ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে এটি কার্যক্ষমতা সাধারণ উড়োজাহাজ অপেক্ষা প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার Motor’র সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে এবং উড্ডয়ন নিরাপদ হয়।
# এতে Motor’র সাথে Retractable Arms ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে Motor flexible ভাবে Vertically Takeoff ও Land করতে পারে।
# যেহেতু এই Plane’র Takeoff ও Land করতে কোন Runway’র প্রয়োজন হয় না। তাই এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি একেবারেই কম।
# Computer Controlled Optimizing System দ্বারা Motor’র Efficiency-কে প্রতি সেকেন্ডে 4000 বার Optimize করা হয়। ফলে এটি আমাদের প্রদান করে সর্বোচ্চ পরিসেবা।
S-2 Aircraft নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। অতি শীঘ্রই এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। মানুষের নিরাপদ বিমান ভ্রমণের যে প্রবল আকাঙ্ক্ষা তা খুবই তাড়াতাড়ি পূরণ হতে যাচ্ছে-এমনটাই আশা করছেন বিশেষজ্ঞবৃন্দ।
বিনীতঃ #শুভ্র_হাসান
19/06/2014
Breaking down the secret of the STONEHENGE!!!
পৃথিবীতে সভ্যতার সূচনা আজ নয়, বরং অনেকদিন আগে। বর্তমানে আমরা বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি সাধন করলেও প্রাচীনকালের মানুষেরাও কোন অংশে কম ছিল না। তারা এমন অনেক কিছু তৈরি করেছে, যা আজও আমাদের কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার। Stonehenge সেরকমই একটা সৃষ্টি। প্রাচীনকালের মানমন্দির হিসেবে খ্যাত এই সুবিশাল পাথরের স্থাপনার নির্মাণশৈলী এবং ব্যবহারিক দিক রীতিমত বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। এই Stonehenge’র গোপন রহস্য উন্মোচন করাই আমাদের এ সপ্তাহের মূল Feature’র উদ্দেশ্য।
Towards the SECRET:
Central Southern England; Wiltshire’র Salisbury Plain। বিশাল বিস্তৃত সমতল ভূমির মাঝে দেখা যায় প্রকাণ্ড পাথরের কিছু স্তম্ভ। দেখে মনে হয় অজানা কোন কারণে এগুলো এখানে অবস্থান করছে অথবা এটি কোন প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসস্তূপ। অথচ আসলে এগুলো হলো প্রাচীনকালের মানমন্দির! শুনলে বিস্মিত হতে হয় এই Stonehenge’র নির্মাণকাল খ্রিষ্টপূর্ব 3000 অব্দে । এই সুবৃহৎ পাথরের স্তম্ভগুলো দেখলে সহজেই অনুমান করা যায় তখনকার যুগের সভ্যতা কতটা উন্নত ছিল। এই পাথরগুলোকে দূরবর্তী স্থান হতে আনয়ন করা এবং তা মাপমতো কেটে সঠিক স্থানে স্থাপন করা অত্যন্ত দুরূহ একটি ব্যাপার। এছাড়া তখনকার সময়ে স্থাপিত এই মানমন্দিরগুলো নিয়ে বর্তমানযুগের Astrophysicist-গণ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কারণ এই মানমন্দিরগুলোর নির্ভুলতা। এগুলো দ্বারা গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান একেবারে নিখুঁতভাবে জানা যায়। যা প্রাচীনকালের জ্যোতির্বিদদের দক্ষতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রদান করে।
Stonehenge নির্মাণের ইতিহাস নিয়ে পুরাতত্ত্ববিদগণ ব্যাপক গবেষণা করেছেন। তাঁরা এর নির্মাণকাল নির্ধারণ করছেন খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে। খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মানুষের মাঝে সভ্যতার ছোঁয়া লাগা শুরু হয়। তখন মানুষ শিকার ছেড়ে পশুপালন এবং ক্রমেই কৃষিরকাজের দিকে ধাবিত হয়। এসময় “গোষ্ঠী” ধারণার সৃষ্টি হয়। পুরাতত্ত্ববিদগণ মনে করছেন, England’র দক্ষিণাংশে বনে ও নদী উপত্যকায় বেশ কিছু গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। অনুমান করা হয় যে, তাদের মধ্যে একটি গোষ্ঠী বেশ উন্নত ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চায় অন্যদের থেকে উন্নত ছিল। যার ফলশ্রুতিতে তারা এই Stonehenge নির্মাণ এবং জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে গবেষণা করতে সক্ষম হয়।
বিনীতঃ #শুভ্র_হাসান continue in part-2