02/12/2023
https://trickhelp.net/top-5-best-online-loan-apps-for-quick-and-convenient-borrowing/
Welcome to IT World Bangladesh on Facebook. Breaking technology news and analysis. The number one guide for all things tech.
IT WORLD Bangladesh is the First, largest & most popular complete technology News media and bangla technology blogging platform in Bangladesh where people blog about advance computing, mobile, IT news, new gadget, science & technology and more in bangla language. If you have a news story for us ,email us at [email protected]
18/05/2023
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যেগুলি সবচাইতে পুরোনো
১৯৪০ এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সামরিক সংকেত বা কোড এর পাঠোদ্ধার করার জন্য ব্রিটিশ কোডব্রেকাররা তৈরি করেন ‘কলোসাস’ নামের এক সেট কম্পিউটার। সেটাকে কম্পিউটিং এর ইতিহাসের শুরুর দিকের মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
তবে আমরা কম্পিউটিং এর সূচনা পর্যন্ত পৌঁছাতে ১৮০০ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত যেতে পারি, যখন চার্লস ব্যাবেজ ডিফারেন্স ইঞ্জিন তৈরি করেন। যদিও ব্যাবেজ তার মেশিনটি দেখে যেতে পারেননি। তবে প্রথম কম্পিউটারের উদাহরণ হিসেবে তার উদ্ভাবিত ডিফারেন্স ইঞ্জিনকেই ধরা হয়।
তাহলে প্রযুক্তি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সময় কবে থেকে ধরা হবে?
আইবিএম এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৯১১ সালে। শুরুর দিকে আইবিএম ট্যাবুলেশন মেশিন নিয়ে কাজ করত। তখন এর নাম ছিল ‘কম্পিউটিং-ট্যাবুলেটিং-রেকর্ডিং কোম্পানি’ (সিআরটি)। বর্তমান সময়ের টেক জায়ান্ট হয়ে ওঠার আগে এটাই ছিল তাদের পরিচয়।
তবে বিশ্বের প্রথম পাবলিক টেলিগ্রাফ কোম্পানি ছিল ‘ইলেকট্রিক টেলিগ্রাফ কোম্পানি’, যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৬ সালে। বর্তমানে কোম্পানিটি যুক্তরাজ্যে ‘BT’ নামে পরিচিত।
এবার দেখা যাক ১৯ শতকে যাত্রা শুরু করা কোন কোন প্রযুক্তি কোম্পানি এখনো টিকে আছে।
# ১৮৪৬ - BT
১৮৪৬ সালে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত এই ইলেকট্রিক টেলিগ্রাফ কোম্পানি ছিল বিশ্বের প্রথম পাবলিক টেলিগ্রাফ কোম্পানি। প্রতিষ্ঠার এক দশক পরে কোম্পানিটি ইন্টারন্যাশনাল টেলিগ্রাফ কোম্পানির সাথে একত্রিত হয়ে তৈরি করে ‘ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল টেলিগ্রাফ কোম্পানি’।
পরবর্তীতে এই কোম্পানিটি একীভূত হয় যুক্তরাজ্যের ডাক বিভাগের অধীনে থাকা একাধিক টেলিগ্রাফ কোম্পানির সাথে। সবশেষে ১৯৭০ এর দশকে কোম্পানিটি ‘ব্রিটিশ টেলিকম’ বা বিটি নাম গ্রহণ করে এবং এখনও এই নামেই তারা পরিচিত।
বর্তমানে ব্রডব্যান্ড, মোবাইল এবং টিভি সার্ভিস, বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং নেটওয়ার্কিং সংক্রান্ত পণ্য বিক্রি করে বিটি।
# ১৮৪৭ - Siemens
জার্মানির শিল্প প্রস্ততকারক কোম্পানি সিমেন্স তাদের যাত্রা শুরু করে বার্লিনে বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাফ তৈরির মাধ্যমে। সে সময় তাদের নাম ছিল ‘টেলিগ্রাফেন বাউআনস্টাল্ট ফন সিমেন্স উন্ড হালস্ক’ (Telegraphen-Bauanstalt von Siemens & Halsk)।
পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো কিছু টেলিগ্রাফ লাইন তৈরি ছাড়াও তারা বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে ছাড়ে, ডায়নামো যন্ত্রের পেটেন্ট করে এবং পরবর্তীতে তারা রেডিও এবং টিভি’র মত নতুন বাজারে প্রবেশ করে।
বর্তমানে এই কোম্পানিতে ৩ লাখেরও বেশি কর্মী কাজ করে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কোম্পানিটি আয় করে ৮৩ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া বা অটোমেশনের জন্যে দরকারি সব ধরনের পণ্য ও সফটওয়্যার সেবা দিয়ে থাকে।
# ১৮৫১ - Corning
কর্নিংকে হয়ত অন্যান্য কোম্পানির মত ঠিক প্রযুক্তি কোম্পানি বলা যাবে না। এটি প্রতিষ্ঠা পায় ১৮৫১ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের সমারভিলে। তখন এর নাম ছিল ‘বে স্টেট গ্লাস কো.’ (Bay State Glass Co)।
এই কোম্পানিই বাজারে গরিলা গ্লাস নিয়ে আসে। বর্তমানে যেই সুরক্ষা গ্লাস আইফোনে ব্যবহৃত হয়।
# ১৮৬৫ - Nokia
বিশ্বজুড়ে টেলিকম অবকাঠামো খাতের অন্যতম সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান নকিয়া এক সময় বিশ্বের মোবাইল ফোনের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রেখেছিল।
দক্ষিণ ফিনল্যান্ডে এই কোম্পানিটি তাদের কাজ শুরু করে মণ্ড বা পাল্প তৈরির কারখানা হিসেবে। সেই অবস্থা থেকে নকিয়া নিজেদের ব্যবসা প্রসার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও রাবার উৎপাদনে। এরপর তারা রেডিও যন্ত্র নিয়ে কাজ করা শুরু করে।
# ১৮৬৯ - Cable & Wireless
‘কেবল অ্যান্ড ওয়্যারলেস’ (সিএন্ডডব্লিউ) ছিল বিটি এর শুরুর দিকের প্রতিদ্বন্দ্বী। কোম্পানিটির ইতিহাস শুরু হয় ১৮৬০ এর দশকের শেষ দিকে। এর সাথে জড়িত ছিল স্যার জন পেন্ডার এর প্রতিষ্ঠিত ‘ফ্যালমাথ, মাল্টা অ্যান্ড জিব্রালটার টেলিগ্রাফ কোম্পানি’ এবং ‘ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান সাবমেরিন টেলিগ্রাফ কোম্পানি’।
বিটি এর মত তাদেরকেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডাক বিভাগের সাথে যুক্ত করে দেয়া হয়। তবে ১৯৮০ এর দশকের প্রথম দিকে মার্গারেট থ্যাচারের বেসরকারীকরণ বা ‘প্রাইভেটাইজেশন’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কোম্পানিটি পুনরায় আত্মপ্রকাশ করে।
২০১২ সালে ভোডাফোন বিশ্বজুড়ে ‘সিঅ্যান্ডডব্লিউ’ এর ব্যবসা কিনে নেয়। কিন্ত ‘লিবার্টি গ্লোবাল’ নামের এক প্রতিষ্ঠানের অঙ্গসংস্থা হিসেবে ‘কেবলস অ্যান্ড ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন’ নামটি এখনো টিকে আছে এবং তারা ছোট পরিসরে ব্যবসা করে যাচ্ছে।
# ১৮৭৫ - Toshiba
কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা লাভের সময় এর নাম ছিল ‘তানাকা সেইসাকুশো’ (Tanaka Seisakusho)। পরবর্তীতে নতুন নাম দেয়া হয় ‘শিবাউরা সেইসাকুশো’ (Shibaura Seisakusho)। সবশেষে যখন ‘টোকিও ডেনকি’ বা ‘টোকিও ইলেকট্রিক’ কোম্পানির সাথে একীভূত হয়, তখন এর নতুন নাম দেয়া হয় তোশিবা।
কোম্পানিটি শুরুতে টেলিগ্রাফ এবং যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্রপাতি তৈরি করত। বিশ শতকের পুরোটা সময় জুড়েই তারা কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, টিভি ও ভিডিও, সেমিকন্ডাক্টর, পরমাণু শক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং আরো বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছে।
# ১৮৭৯ - GE
‘থমসন-হিউস্টন ইলেকট্রিক কোম্পানি’ এবং থমাস এডিসনের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন অংশ একসাথে মিলে জন্ম হয় ‘জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানি’ যা GE (জিই) নামে বেশি পরিচিত।
কোম্পানিটি ১৯ শতকের শেষ দিকে যেমন বিশাল ছিল, এখনো তার সেই অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। মার্কিন শেয়ারবাজারের অংশ হিসেবে ‘ডাও জোন্স’ (Dow Jones) নামের শেয়ার বাজার সূচকে সর্বপ্রথম যে ১২টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়, তার মধ্যে কেবল জিই এখন পর্যন্ত টিকে আছে।
এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটি তাদের ব্যবসা জ্বালানী, বিমান এবং মহাকাশ, যোগাযোগ, তেল, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন দিকে বড় করেছে।
১৯৬০ এর দশকে জিই কম্পিউটার জগতের অন্যতম বড় কোম্পানি ছিল। বর্তমানে কোম্পানিটি এর ‘প্রেডিক্স’ নামের সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিল্প ও আইওটি খাতে প্রতিযোগিতা করছে।
# ১৮৯২ - Kapsch
অস্ট্রিয়ান কোম্পানি ‘ক্যাপশ’ এর আদি নাম ছিল ‘টেলেফোন উন্ড লিগ্রাফেন-ফ্যাব্রিকস-আক্টিএঙ্গেজেলশাফট ক্যাপশ উন্ড জোনে ইন ভিন’ (টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফ প্রস্ততকারক স্টক কোম্পানি ক্যাপশ অ্যান্ড সন্স, ভিয়েনা)।
কোম্পানিটি টেলিগ্রাফ সামগ্রী, কন্ডাকটর এবং টেলিফোন সামগ্রী তৈরিতে বিশেষভাবে দক্ষ ছিল।
বর্তমানে তারা টেলিযোগাযোগ, টেলিম্যাটিক্স এবং শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য ও সেবা প্রদান করে থাকে।
# ১৮৭৬ - Ericsson
লারস ম্যাগনাস এরিকসন যখন এই কোম্পানিটি শুরু করেন, তখন এটি ছিল স্টকহোমের একটি টেলিগ্রাফ মেরামত করার দোকান। বর্তমানে এই সুইডিশ জায়ান্ট কোম্পানির মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার। এবং এর প্রায় ১,০০,০০০ কর্মী পুরো বিশ্বজুড়ে নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর কাজে দরকারি যন্ত্রাংশ এবং টেলিকম বিষয়ক সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।
# ১৮৮৫ - AT&T
১৮৮৫ সালে ‘আমেরিকান টেলিফোন অ্যান্ড টেলিগ্রাফ কোম্পানি’ নামে যাত্রা শুরু করে AT&T। তবে এর এক দশক আগে প্রতিষ্ঠিত অ্যালেকজান্ডার গ্রাহাম বেল এর ‘বেল টেলিফোন কোম্পানি’র সাথে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
‘এটিঅ্যান্ডটি’ বিশ শতকের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেলিফোন কোম্পানি হিসেবে ব্যবসা করে গেছে।
ওয়্যারলেস পণ্যের বাজারে এখনও কোম্পানিটির অনেক বড় শেয়ার রয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে কোম্পানিটি একাধিকবার ভেঙেছে আর একীভূত হয়েছে অন্য কোম্পানির সাথে। অতীতে কোম্পানিটির মালিকানায় থাকা ‘বেল ল্যাব’ এখন নকিয়ার অধীনে রয়েছে।
এই বেল ল্যাব প্রযুক্তি ইতিহাসের অনেক মাইলফলক অর্জনের সাথে যুক্ত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল: ট্রানজিস্টর এর উন্নয়ন, প্রোগ্রামিং ভাষা ‘সি ল্যাংগুয়েজ’ এবং ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম।
# ১৮৮৫ - Ferranti
মূলত ইলেকট্রিক প্রযুক্তি এবং পণ্য নিয়ে কাজ করার জন্য বিখ্যাত যুক্তরাজ্য ভিত্তিক এই কোম্পানিটি ১৯৪০ এর দশকে কম্পিউটার এর জগতে ব্যবসা শুরু করে, প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫৫ বছর পরে।
ফেরানটি কোম্পানির তৈরি ‘মার্ক ওয়ান’ নামের কম্পিউটারকে এখন বাণিজ্যিকভাবে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাজারে ছাড়া বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ফেরানটি নামের কোম্পানিটি ১৯৯৩ সালে গুটিয়ে যায়। তবে নেদারল্যান্ড ভিত্তিক নাইকার্ক গ্রুপের অংশ হিসেবে ‘ফেরানটি কম্পিউটার সিস্টেমস’ নামে এখনও কাজ করে যাচ্ছে কোম্পানিটি। তারা মূলত আইটি অবকাঠামো নিয়ে কাজ করে থাকে।
# ১৮৮৭ - Océ
নেদারল্যান্ডে শুরু হওয়া ‘অসে’ কোম্পানিটি প্রথমে মাখন ও মার্জারিন রঙ করার জন্য মেশিন তৈরি করত। আরো উন্নত ব্লু-প্রিন্ট কাগজ তৈরি করার জন্য কোম্পানিটি ১৯১০ এর দশকে মুদ্রণ ও প্রকাশনা বাজারে প্রবেশ করে।
বর্তমানে ‘অসে’ ক্যানন এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসা করছে, যারা প্রিন্টিং এবং ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো সমাধান প্রদান করে থাকে।
# ১৮৮৮ - Kodak
কোডাক নামের মার্কিন এই ইমেজিং কোম্পানি হচ্ছে ইতিহাসের প্রথম দিকের ফটোগ্রাফি কোম্পানি, যারা মূলত ক্যামেরা, ফিল্ম এবং ডেভেলপিং এর জন্যে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি করত।
ডিজিটাল ফটোগ্রাফির যুগে এসেও কোম্পানিটি বেঁচে আছে। তারা এখন মনোযোগ দিয়েছে স্মার্টফোনের দিকে। এছাড়া ট্যাবলেট, ডিজিটাল স্ক্যানার এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইন করার মেশিন নিয়েও তারা কাজ করে থাকে।
# ১৮৮৯ - Nintendo
গেমিং এর জগতে নিনটেন্ডো একটা বড় নাম, যারা গেমবয় এবং ‘নিনটেন্ডো সুইচ’ এর মত প্রোডাক্ট বাজারে এনেছিল। ১৮৯৯ সালে কোম্পানিটি জাপানের কিওটোতে হাতে বানানো প্লেয়িং কার্ড তৈরি করত।
# ১৮৯১ - Philips
ডাচ নাগরিক ফ্রেডেরিক ফিলিপস তার সন্তান জেরার্ড ফিলিপসকে নিয়ে ফিলিপস কোম্পানি শুরু করেছিলেন। শুরুতে তারা ল্যাম্প বা বৈদ্যুতিক বাতি তৈরি করত।
বর্তমানে কোম্পানিটি কেবল লাইট এবং টিভি বানানোতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং স্মার্টফোন এবং আইওটি জগতেও তাদের ব্যবসা রয়েছে।
# ১৮৯৫ - ÅF
১৮৯৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সুইডেনের মালমো’তে যাত্রা শুরু করে কোম্পানিটি। তখন এর নাম ছিল ‘সাউদার্ন সুইডিশ স্টিম জেনারেটর অ্যাসোসিয়েশন’। এবং এর কাজ ছিল বাষ্প ইঞ্জিনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা।
বর্তমানে ‘ওউএফ’ (ÅF) জ্বালানী, শিল্প এবং অবকাঠামো খাতে পরামর্শক সেবা প্রদান করে থাকে। এর উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন শিল্পে নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগানোর মাধ্যমে কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে তা নির্ণয় করা।
# ১৮৯৫ - Anritsu
জাপানি কোম্পানি ‘সেকিসান-শা’ (Sekisan-sha) এর জন্ম হয় ১৮৯৫ সালে। ১৯০৩ সালে এর নতুন নাম হয় ‘আনরিতসু’ (Anritsu)। তখন তারা বাজারে বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ট্রান্সমিটার নিয়ে আসে।
বর্তমানে কোম্পানিটি টেলিকম অ্যানালাইজার, টেস্টিং যন্ত্র এবং অপটিক্যাল যন্ত্র তৈরি করে থাকে।
# ১৮৯৮ - KUKA
জার্মান রোবট প্রস্ততকারক কোম্পানি কুকা (KUKA) ১৮৯৯ সালে জার্মানির অউগসবর্গ-এ তাদের যাত্রা শুরু করে। শুরুতে তাদের নাম ছিল ‘অ্যাসেটিলিনভ্যার্ক ফুর বেলয়েচটুঙ্গেন’ (Acetylenwerk für Beleuchtungen)।
সে সময় তারা বাড়ি এবং রাস্তা কম খরচে আলোকিত করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করত। সেই অবস্থা থেকে কোম্পানিটি ১৯৫০ সালে ‘স্বয়ংক্রিয় ওয়েলডিং সিস্টেম’ তৈরি করে।
পরে ১৯৭০ এর দিকে তারা ‘ফামুলুস’ (FAMULLUS) নামের শিল্পে ব্যবহারের জন্য রোবট তৈরি করে। বর্তমানে তারা এমন বাহু বিশিষ্ট রোবট তৈরি করে থাকে, যা বিভিন্ন দিকে প্রয়োজন অনুসারে নড়তে পারে। তাদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের রোবট দিয়ে সকল ধরনের উৎপাদন কারখানায় কাজ করা যায়।
# ১৮৯৯ - NEC
জাপানের কংগ্লোমারেট প্রতিষ্ঠান ‘নিপ্পন ইলেকট্রিক কোম্পানি’ এখন ‘এনইসি’ নামে পরিচিত। এর গোড়াপত্তন হয় ১৮৯৯ সালে।
এই তালিকায় থাকা অনেক কোম্পানির মত তারাও শুরুতে টেলিফোন নিয়ে কাজ করত, এবং সুইচ তৈরি করত। বর্তমানে তারা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য ও যন্ত্র তৈরি করে থাকে। এছাড়া নেটওয়ার্ক ও টেলিকম সেবার জন্য সকল ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে।
# ১৯০০ - NEP
‘নর্থ-ইস্টার্ন পেনসিলভেনিয়া টেলিফোন কোম্পানি’ (এনইপি) এর সদর দপ্তর আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের ফরেস্ট সিটিতে অবস্থিত।
১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এখনো কোম্পানিটি শুধুমাত্র পেনসিলভেনিয়া রাজ্যেই ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাদের সেবার মধ্যে আছে ইন্টারনেট প্যাকেজ বা ফোন সার্ভিসের মত অনেক কিছু।
12/05/2023
১৯৫০ সালে আদমজী জুট মিলের প্রধান ফটকঃ-
আদমজী জুট মিল্স ছিল একটি পাটকল। বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থিত এই কারখানাটি পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল হিসাবে বিখ্যাত ছিল। ১৯৫০ খ্রীস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত আদমজী জুট মিল্স তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ২য় পাট কল (প্রথমটি হল বাওয়া পাট কল)। পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানের বাংলাদেশ) এর উন্নতমানের পাট ব্যবহার করে আদমজী পাট কলে বিভিন্ন পাটজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা হত। এটিকে এক সময় বলা হত প্রাচ্যের ডান্ডি (স্কটল্যান্ডের ডান্ডির নামানুসারে)। ১৯৭০ এর দশকে প্লাস্টিক ও পলিথিন পাটতন্তুর বিকল্প হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলে আদমজী পাট কলের স্বর্ণযুগের অবসান হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এটিকে জাতীয়করণ করা হয়। তখন থেকে ১৯৮০ এর দশকের কয়েকটি বছর ব্যতীত অন্য সব বছর এটি বিপুল পরিমাণে লোকসান দেয়। শ্রমিক ও মূলতঃ বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর বাধা সত্ত্বেও ২০০২ খ্রীস্টাব্দের ২২শে জুন এই কলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে মিলটির ১নং ইউনিট রপ্তানী প্রক্রিয়াকরন এলাকায় পরিনত করা হয়েছে। ২নং ইউনিটটি পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া চলছে।
ইতিহাসঃ-
পাকিস্তানের অন্যতম ধনাঢ্য আদমজী পরিবারের তিন ভাই এ. ওয়াহেদ আদমজী, জাকারিয়া আদমজী ও গুল মোহাম্মদ আদমজী যৌথভাবে আদমজী জুটমিল প্রতিষ্ঠা করেন। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার তীরে সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়ায় আদমজী জুটমিল গড়ে ওঠে ২৯৭ একর জমির ওপর। ১৭০০ হেসিয়ান ও ১০০০ সেকিং লুম দিয়ে এই মিলের উৎপাদন শুরু হয় ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর। ওই সময় এই মিলের উৎপাদন থেকে প্রতি বছর প্রায় ৬০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর যাত্রা শুরুর পর পরই আদমজী জুট মিলস লি. শেয়ার ছেড়ে বিনিয়োগ উন্নীত করা হয় ৭ কোটি টাকায়।তখন মিলে তাঁতকল বসানো হয় ৩ হাজার ৩০০টি। আদমজী জুট মিলে উৎপাদিত চট, কার্পেটসহ বিভিন্ন প্রকার পাটজাত দব্য দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি হতো চীন, ভারত, কানাডা, আমেরিকা, থাইল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এ সময় আদমজী জুট মিল হয় পৃথিবীর অন্যতম জুট মিল এবং এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ কারখানা। আদমজীকে ঘিরে শীতলক্ষ্যার দুইপাড়ে সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁয়ে গড়ে ওঠে বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাস।
(সংগৃহীত)।
12/05/2023
ফেসবুক-গুগল-ইউটিউবের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ১৫ শতাংশ কর কর্তন হবে
ইন্টারনেটভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং এবং বিদেশি রেডিও-টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন সম্প্রচার থেকে আয়ের ওপর ১৫ ও ২০ শতাংশ কর কর্তনের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়োজিত সব ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ এবং বিদেশি টেলিভিশন-রেডিওতে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের আয় (দেশি প্রতিষ্ঠানের ব্যয়) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠাতে ২০ শতাংশ কর কেটে রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ থেকে সাধারণত গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বরা হয়েছে, অনিবাসী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ৫৬ ধারার আওতায় ব্যাংকগুলো বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন হারে কর কর্তন করা হচ্ছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত ১৭ এপ্রিল এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে, অর্থাৎ ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ এবং রেডিও-টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন সম্প্রচারের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ কর কর্তন করতে হবে। চলতি ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই হারে কর কর্তনের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পরিপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আগে নির্দেশনা দিয়ে থাকলেও ১৭ এপ্রিলের পরিপত্রের পর তা আর প্রযোজ্য হবে না।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলে, অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা ওয়েবসাইটে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার, প্রচারণা বা বিপণন করা হলে তা ডিজিটাল মার্কেটিং হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ১৫ শতাংশ করহার প্রযোজ্য হবে।
তবে টেলিভিশন বা রেডিওতে প্রচারিত কনটেন্ট বা বিজ্ঞাপন ডিজিটাল মার্কেটিং হিসেবে গণ্য হবে না; এসব মাধ্যমে বিজ্ঞাপন সম্প্রচার হলেই কেবল তা অ্যাডভার্টিসমেন্ট ব্রডকাস্টিং হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে করহার ২০ শতাংশ।
11/05/2023
নাপোলি তে একটা জানালা' আছে যেটা শুধুমাত্র নাপোলি স্কুডেটো জিতলে খুলা হয়! নাপোলির মানুষ'রা এইটা ১৯৮৭ এবং ১৯৯০ এ খুলেছিলো যখন 'ম্যারাদোনা' তাঁদের সিরিয়া চ্যাম্পিয়ন করেছিলো, এবং ব্যতিক্রম একবার হয়েছিলো যখন "আর্জেন্টিনা কাতার বিশ্বকাপ জিতে" ওইদিন তাঁরা এই জানালা খুলেছিলো!!
কিছু দিন আগে নাপোলির মানুষ'রা আবার এই জানলা খুললো স্কুডেটো জিতার খুশীতে!
নাপলিয়ানদের কাছে ফুটবল মানেই- "ম্যারাদোনা"
11/05/2023
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ফেসুবক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে সবচেয়ে বেশি। তরুণেরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে আরও সুন্দরভাবে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কিশোর বয়সীরা যাতে সাইবার বুলিংয়ের শিকার না হয়, সে বিষয়েও কাজ করছে মেটা। এ বিষয়গুলো জানাতে আজ মঙ্গলবার সকালে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মেটা।
ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ায় ফেসবুকের সেফটি সিকিউরিটি ম্যানেজার প্রিয়াঙ্কা বালা বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু মনস্তত্ত্ব, ডিজিটাল লিটারেসিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে আমরা বিভিন্ন ফিচার ও টুল তৈরি করেছি। ফলে সবার জন্য নিরাপদে ও দায়িত্বশীলভাবে অনলাইনে যুক্ত হওয়া সহজ হয়।’
প্রিয়াঙ্কা জানান, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট খোলার আগে ব্যবহারকারীর বয়স অবশ্যই ১৩ হতে হবে। সর্বনিম্ন বয়সসীমার নিচে কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টের খোঁজ পেলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে দেবে (ডিলিট) দেবে কর্তৃপক্ষ। তবে বয়সসীমা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে স্পষ্ট কোনো ধারণা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।
প্রিয়াঙ্কা বালা তাঁর আলোচনায় তুলে ধরেন, যদি ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ তার বয়স ১৮ বছরের বেশিতে পরিবর্তন করতে চায়, তাকে নিজের পরিচয়পত্র আপলোড করে অথবা ভিডিও সেলফি রেকর্ড করে নিজের বয়স যাচাই করিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে মা-বাবারা ‘ফ্যামিলি সেন্টার অ্যাকসেস’ করে নিজের কিশোর-কিশোরী সন্তানের সঙ্গে টুল সেটআপ করে নিতে পারেন। ফলে তাঁরা ইনস্টাগ্রামে সন্তানের কার্যক্রম তদারক করতে পারেন।
২০২১ সাল থেকে ১৬ বছরের নিচে যে কেউ ইনস্টাগ্রামে যোগ দিলে তার অ্যাকাউন্ট ‘প্রাইভেট অ্যাকাউন্ট’–এ পরিণত হয়। অপ্রাপ্তবয়স্করা ফেসবুকে নতুন অ্যাকাউন্ট খুললে তাদের অ্যাকাউন্টে ‘ফ্রেন্ডস’ অপশন দেওয়া থাকে। তাদের অ্যাকাউন্টে ‘পাবলিক’ অপশনটি থাকে না। ফলে তারা কোনো ছবি বা পোস্ট দিলে, সেগুলো সবাই দেখতে পাবে না। শুধু তাদের প্রোফাইলে যুক্ত থাকা বন্ধুরা দেখতে পাবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ ‘পাবলিক’ অপশন দিয়ে কিছু শেয়ার করতে চায়, তাকে সেটিংসে গিয়ে অপশনটি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের ‘পাবলিক’ হিসেবে শেয়ার করার অর্থও জানিয়ে দেয় ফেসবুক।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা বালা বলেন, ‘গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কিশোর-কিশোরীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিজ্ঞাপনদাতারা শুধু বয়স ও স্থান (লোকেশন) ব্যবহার করতে পারছেন। টার্গেটিং অপশনের তালিকা থেকে আমরা জেন্ডার (লিঙ্গ) সরিয়ে দিয়েছি। গত বছর ইন্টারেস্ট ও অন্যান্য অপশনও সরিয়ে দিয়েছি। বয়স ও স্থানের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে কিশোর-কিশোরীরা তাদের বয়সের উপযুক্ত বিজ্ঞাপন দেখতে পাচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদের অবস্থানস্থলের আশপাশে প্রাপ্ত পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপন তাদের কাছে পৌঁছানোও নিশ্চিত করা যায়। এ ছাড়া কিশোর-কিশোরীদের আগের এনগেজমেন্ট, লাইক দেওয়া ইনস্টাগ্রাম পোস্ট বা ফেসবুক পেজ, তাদের দেখা বিজ্ঞাপনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।’
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে সাইবার বুলিং বা হয়রানি বন্ধেও মেটা কাজ করছে। কিশোর–কিশোরীদের জনপ্রিয় মাসিক ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’র সঙ্গে মিলে মেটা সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রিয়াঙ্কা বাল্লা। সম্মেলনে সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কা থেকে মেটার বেশ কয়েকজন কর্মী যুক্ত ছিলেন।
11/05/2023
একটি ব্যতিক্রমী বাঙালি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস।
তার নাম হল সাধনা ঔষধালয়,ঢাকা। আজকের দিনে বড় বেমানান এই প্রতিষ্ঠান।
দোকান বন্ধ। অথচ কর্মচারীদের এখনও বসিয়ে বসিয়ে মাহিনা দেয়। সারা ভারতবর্ষে একটি বিরল ঘটনা।
আজ ফিরে দেখা সেই ইতিহাস।
১৯০৫ সাল বঙ্গভঙ্গ।
চারিদিকে তখন স্বদেশি আন্দোলনের জোয়ার।
বিদেশি পণ্য বয়কট কর।
দেশিয় শিল্প গড়ে তুলতে নেমে পড়লেন একদল উদ্যোগী বাঙালি যুবক।
একের পর এক দেশিয় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠল।
এইচ বোসের কলের গান,কেশতেল, দেলখোশ সুবাস, সি কে সেনের জবাকুসুম, বেঙ্গল পটারি,বেঙ্গল গ্লাস ফ্যাক্টরি, পি এম বাকচির কালি, সুগন্ধি, মোহিনী মিলের কাপড়ের কারখানা,সেন রেলের সাইকেল কারখানা এবং আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের বেঙ্গল কেমিক্যাল আরো কত শিল্প।
আর এই পথ ধরে এক বাঙালি যুবক গড়ে তুললেন ঢাকায়, সাধনা ঔষধালয়।
নাম তার যোগেশচন্দ্র ঘোষ।
সেই আমলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের এম এ।
ভাগলপুরে অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে মাস্টারমশাই আচার্য পি সি রায়ের অনুপ্রেরণায় গড়ে তুললেন আয়ুর্বেদ ঔষধের কারখানা।
তার নাম হল সাধনা ঔষধালয় ঢাকা।
অচিরেই এই প্রতিষ্ঠানের নাম সারাভারতে ছড়িয়ে পড়ল।
সুভাসচন্দ্র বসু, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই প্রতিষ্ঠানের ওষুধ ব্যবহার করতেন।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জ্বর হলেই এই প্রতিষ্ঠানের ওষুধ খেতেন।
সেইসময় প্রায় চারশোর বেশি শাখা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল।
পণ্য রফতানি হত আমেরিকা,চীন, ইরাক, ইরান, আফ্রিকার দেশে।
এবার এল সেই দিন! ১৯৭১ সাল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।
যোগেশচন্দ্র পরিবারের সকলকে কলকাতায় পাঠিয়ে দিলেন।
শত বলা সত্বেও বাংলাদেশ ছেড়ে গেলেন না।
বললেন, মরলে এখানেই মরবো।
তবু এদেশ ছেড়ে কোথাও যাবো না।
ফলে যা হবার হল।
১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস।
সশস্ত্র খান সেনেরা কারখানায় এলো।
গুলি করে খুন করল যোগেশচন্দ্র ঘোষকে।🙂
তবু ফ্যাক্টরি বন্ধ হল না।
কারণ সাধনা ঔষধালয়ের প্রডাক্টের চাহিদা তখনও ভারতজুড়ে।
একশো তিরিশটা দোকান চলছে ভারতে।
কলকাতায় তিরিশটা শাখা।
দাক্ষারিস্ট,চ্যবনপ্রাশ, সারিবাদি সালসা, জ্বরের ওষুধ,বিউটি ক্রিম আরো কত প্রডাক্টের তখনও হেভি ডিমান্ড।
৮০ সাল পর্যন্ত কোম্পানি চার কোটি টাকা লাভ করেছে।
তারপর ২০০৮ থেকে ২০১২ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় আধুনিকীকরণের অভাবে।
অনেক দোকান তবু খোলা ছিল।
কিন্তু যোগেশচন্দ্রের অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়া বন্ধ হল না।
তাদের চলবে কিভাবে?
সারা ভারতবর্ষে এই ঘটনা এক বিরল দৃষ্টান্ত।
যেখানে মালিকরা শ্রমিক কর্মচারীদের পি এফ, গ্র্যাচুয়াটির টাকা মেরে দেয় সেখানে যোগেশচন্দ্ররা ব্যতিক্রম তো বটেই।
সব মালিক যদি এরকম হত!
এই কোম্পানির জীবিত একমাত্র বংশধর হলেন শীলা ম্যাডাম।
তিনিই উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তমানে কোম্পানির মালিক।
তিনি বিবাহ করেননি।
তিনি আধ্যাত্মিকতা নিয়ে থাকেন।
এই কোম্পানির বর্তমানে কিছু দোকান এখনও খোলা আছে।
অনেক ওষুধই নেই।
বিক্রি একরকম নেই।
কর্মচারীরা বলেন আজকের দিনে ৩৪ টাকা কিংবা ৫৫ টাকায় কোন ওষুধ পাওয়া যায়?
দাম বাড়ানো দরকার।
কিন্তু শীলা ম্যাডাম অনড়।
তিনি বলেন অল্প লাভ রেখে গরীব মানুষের পাশে একটু দাঁড়ালে ক্ষতি কি?
অত টাকা করে কী লাভ?
যতদিন পারে চলুক।
তবু টিমটিম করে জ্বলছে শতবর্ষের বেশি প্রাচীন সাধনা ঔষধালয়।
এখনও কলকাতা ও রাজ্যের বুকে দু'একটা রঙচটা সাধনা ঔষধালয়ের বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে,
" সাধনা ঔষধালয়, ঢাকা" একটি আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠান।
কালের নিয়মে একদিন হারিয়ে যাবে এই প্রতিষ্ঠান।
শুধু জেগে থাকবে এক দেশপ্রেমিক বাঙালির স্বপ্ন,
"সাধনা ঔষধালয়। "
শ্রদ্ধা ছাড়া আর কিবা জানাতে পারি আপনাকে যোগেশচন্দ্র ঘোষ মহাশয়।
তথ্যসূত্র
আনন্দবাজার পত্রিকার নিবন্ধ।
10/05/2023
ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর ও বিধবা বিবাহ
ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরকে একেবারে সেলিব্রিটি বানিয়ে ফেলেছে কারা? কেন? সহজ উত্তর হলো- এলিট শ্রেণী।বিধবা বিবাহ চালু করার জন্য।
তিনি বাঙালী সমাজে বিধবা বিবাহ চালু
করলো বলে এলিট শ্রেণীর গর্বে বুক ভরে যায়, প্রচার আর প্রসারে কমতি নেই। প্রগতিশীল আর যুক্তিবাদীরা এই নিয়েই পরে থাকে।
বিধবা বিবাহ চালু করার জন্য মুসলিমরাও ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরকে শ্রদ্ধা জানায়, তাকে নিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়।বিভিন্ন সম্মেলনেও কিছু মুসলিম প্রগতিশীল লোকেরা বক্তৃতা দিয়ে জানান দেন যে বিধবা বিবাহের প্রবর্তক ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর,তিনি আমাদের গর্ব,তিনি নারী জাতিকে নতুন জীবন দিয়েছে.....ইত্যাদি ইত্যাদি।
ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবদ্দশায় কি এই বাংলায় মুসলিম সম্প্রদায় ছিলো না? ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের আশেপাশে কি মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস ছিলো না?
ছিলো, অবশ্যই ছিলো।
সেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে কি তখন বিধবা বিবাহ চালু ছিলো না? অবশ্যই ছিলো।সেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে সম্পন্ন হওয়া বিধবা বিবাহ অনুষ্ঠান কি বিদ্যাসাগরের নজরে আসেনি? অবশ্যই এসেছে।বিধবা বিবাহের থিসিসটি বিদ্যাসাগর নিয়েছিলেন সেই মুসলিম সম্প্রদায়ের থেকেই। অপরদিকে বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের পক্ষে রাজা রামমোহন রায় থিসিসটি নিয়েছিলো মাদ্রাসা থেকে।রামমোহন রায় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছিলেন।
"বিধবা বিবাহ আইন ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই বিদ্যাসাগরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পাস হয়।"--এই লেখাটা এলিট শ্রেণীর লেখা। এর মাঝেই ভুলের বীজ বপন করা হয়েছে।এখানে লেখা উচিত ছিলো,"হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই বিদ্যাসাগরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা পাস করা হয়"।
কিন্তু এটাকে বাঙালি বিধবা নারীর বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে এই বিধবা বিবাহ আইন আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে চালু করে গিয়েছেন, পাস করে গিয়েছেন হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)।এবং তার নির্দেশ মতোই বাঙালী মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে সেই ৭০০/৮০০ বছর আগে থেকেই বিধবা বিবাহ সম্পন্ন হয়ে আসছে।
সেসব প্রগতিশীলদের চোখে পড়বে না, পড়লেও এড়িয়ে যেতে হবে, কারণ ওটা যে ইসলামের দেয়া বিধান।কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই ইসলামের দেয়া বিধানটা যে যুক্তিসঙ্গত হয়ে পড়লো, বিজ্ঞানসম্মত হয়ে পড়লো।ওরা যে ইসলামের বিধান মেনে বিধবা নারীদেরকে পুনরায় বিয়ে দিয়ে সুখে শান্তিতে আছে।এখন ওটাও যে আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে চালু করা দরকার। কিন্তু কীভাবে?
পরের ঘটনা আপনাদের জানা আছে নিশ্চয়ই।
ঝুমুর রায় কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (সংগ্রিহীত)
10/05/2023
দুঃখ কাকে বলে এর প্রায় সবই কবিগুরু পেয়েছিলেন এক জীবনে। স্ত্রী মারা গেলেন কবির ৪১ বছর বয়সে। কবির ছিলো তিন মেয়ে, দুই ছেলে। রথীন্দ্রনাথ, শমীন্দ্রনাথ আর বেলা, রাণী ও অতশী।
স্ত্রী'র পর অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন রাণী। এরপর কলেরায় মারা গেলো ছোট ছেলে শমী। পুত্রশোকে কবি লেখলেন-
"আজ জোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে।"
কবি'র মনে হলো এই জোৎস্নায় কবি বনে গেলে হবে না। বরং তাঁকে জেগে থাকতে হবে, যদি বাবার কথা মনে পড়ে শমী'র! যদি এসে কবিকে না পায়? তিনি লেখলেন-
"আমারে যে জাগতে হবে, কী জানি সে আসবে কবে
যদি আমায় পড়ে তাহার মনে।'
রাণীর জামাইকে পাঠিয়েছিলেন কবি বিলেতে ডাক্তারী পড়তে, না পড়েই ফেরত আসলো। বড় মেয়ের জামাইকে পাঠিয়েছিলেন বিলেতে, ব্যারিস্টারী পড়তে, না পড়েই ফেরেত আসলো। ছোট মেয়ে অতশীর জামাইকেও আমেরিকায় কৃষিবিদ্যার উপর পড়াশোনা করতে। লোভী এই লোক কবিকে বার বার টাকা চেয়ে চিঠি দিতো। কবি লেখলেন-
"জমিদারী থেকে যে টাকা পাই, সবটাই তোমাকে পাঠাই।"
দেশে ফেরার কিছুদিন পর ছোট মেয়েটাও মারা গেলো।
সবচাইতে কষ্টের মৃত্যু হয় বড় মেয়ের। বড় জামাই বিলেত থেকে ফেরার পর ছোট জামাইর সাথে ঝগড়া লেগে কবির বাড়ী ছেড়ে চলে যায়। মেয়ে বেলা হয়ে পড়েন অসুস্থ। অসুস্থ এই মেয়েকে দেখতে কবিগুরু প্রতিদিন গাড়ী করে মেয়ের বাড়ী যেতেন। কবিকে যত রকম অপমান করার এই জামাই করতেন। কবির সামনে টেবিলে পা তুলে সিগারেট খেতেন। তবু কবি প্রতিদিনই যেতেন মেয়েকে দেখতে। একদিন কবি যাচ্ছেন, মাঝপথেই শুনলেন বেলা মারা গেছে। কবি শেষ দেখা দেখতে আর গেলেন না। মাঝপথ থেকেই ফেরত চলে আসলেন। হৈমন্তীর গল্প যেন কবির মেয়েরই গল্প!
শোক কতটা গভীর হলে কবির কলম দিয়ে বের হলো -
"আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে॥"
কবির মৃত্যু হলো অতিমাত্রায় কষ্ট সহ্য করে, প্রশ্রাবের প্রদাহে। কী কারনে যেন কবির বড় ছেলে রথীন্দ্রনাথের কাছ থেকে শেষ বিদায়টাও পাননি। দূর সম্পর্কের এক নাতনি ছিলো কবির শেষ বিদায়ের ক্ষণে।
কবি জমিদার ছিলেন এইসব গল্প সবাই জানে। কবি'র দুঃখের এই জীবনের কথা ক'জন জানেন?
প্রথম যৌবনে যে গান লেখলেন, এইটাই যেন কবির শেষ জীবনে সত্যি হয়ে গেলো-
"আমিই শুধু রইনু বাকি।
যা ছিল তা গেল চলে, রইল যা তা কেবল ফাঁকি॥"
[Collected]