বাসর রাতে মেয়েটি
স্পষ্ট স্বরে জানিয়ে
দেয় -
- এইযে শুনুন, আমি
কিন্তু আপনাকে বিয়ে
করতে চাইনি
রাহাত বেশ ভদ্র,
মার্জিত ছেলে।
হাসিমুখে
জবাব দেয় -
- হ্যা, জানতাম।
- তো বিয়ে করলেন
কেন?
- এমনি
- শুনুন, রাগাবেন না!
এমনি কোন কিছু হয়
না,
রাহাত কি বলবে ভেবে
পায় না। বিয়েটা ওর
মায়ের ইচ্ছেতেই
হয়েছে। মায়ের ইচ্ছের
ওপর
না বলতে পারেনি।
রাহাত চুপ করে থাকে।
ইতোমধ্যে মেয়েটি
রেগে নাকের ডগা আর
মুখ
টকটকে লাল করে বসে
আছে।
- কি ব্যাপার! চুপ করে
আছেন কেন?
সোজাসুজি বলে
দিচ্ছি, আমি
আপনাকে
ভালোবাসতে পারবো না!
আর আপনি
আমাকে মোটেও স্পর্শ
করবেন না!
রাহাত হেসে মাথা
নাড়ায়। সুন্দরীদের
রাগলে বেশ লাগে।
কিন্তু রাহাত আর
রাগাতে সাহস পায় না।
এমনিতেই যা
তিরিক্ষি মেজাজ
করে বসে আছে! রাহাত
আস্তে করে গিয়ে
নিজের বালিশে মাথা
রেখে শোয়। দুজনেই
ছাদের দিকে চেয়ে শুয়ে
আছে। কিছুক্ষণ পর
মেয়েটি রাহাতের
উল্টোপাশে মুখ
ফিরিয়ে শোয়। একসময়
মেয়েটি নিজ থেকেই
কথা বলা শুরু করে,
এবার
কন্ঠে আর কোন রাগ
নেই, কেমন যেন
কান্নাভেজা
কন্ঠস্বর-
- আমি একজনকে
ভালোবাসতাম!
রাহাত অবাক হয়। ও
জানত না এসব।
খানিকটা
অবাক সুরে বলে,
- উনি কোথায় এখন?
- ও বেঁচে নেই আর!
বলে মেয়েটা কান্নায়
ভেঙ্গে পড়ে।
রাহাতেরও বেশ মন
খারাপ হয়। মেয়েটাকে
কি
বলে যে স্বান্ত্বনা
দিবে তা ভেবে পায় না
ও। রাহাত চুপ করে
থাকে। আর ওদিকে
মেয়েটি
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে
কেঁদে
চলেছে।
রাহাত নিজের হাতটা
মেয়েটির মাথার দিকে
এগিয়ে নিয়ে যায় একটু,
কিন্তু আবার হাতটা
সরিয়ে নেয় কি মনে
করে । চুপ করে শুয়ে
থাকে
সে।
পরদিন খুব ভোরে
আজানের শব্দে ঘুম
থেকে
উঠে পড়ে রাহাত। উঠে
দেখে মেয়েটি তখনো
ঘুমিয়ে। অযু করে
ফজরের নামাজ আদায়
করে
নেয় সে। তারপর
কিছুক্ষণ কুরআন
তিলাওয়াত
করে। ততক্ষনে
আকাশ বেশ ফর্সা হয়ে
উঠেছে।
কিন্তু মেয়েটি তখনও
ঘুমিয়ে। মেয়েটির নাম
নিশাত।
সকাল প্রায় নয়টা
বেজে গিয়েছে তখন।
রাহাত ইজি চেয়ারে
বসে একটা উপন্যাস
পড়ছিল। হঠাৎ বিছানা
থেকে নিশাতের গলার
অস্ফুট আওয়াজ পেয়ে
বিছানার দিকে
তাকায়। দেখে, মেয়েটি
ঘুম থেকে উঠেছে আর
ঘোরের মাঝে কি যেন
বলছে অস্ফুট স্বরে।
রাহাত তাড়াতাড়ি
নিশাতের পাশে গিয়ে
দাঁড়ায়। নিশাতের লম্বা
চুল মুখের উপর ছড়িয়ে
আছে এলোমেলোভাবে।
রাহাত হাত দিয়ে
চুলগুলো ঠিক করে
দেয়ার সময় টের পায়,
কপালটা ভীষণ গরম
নিশাতের! রাহাত
আঁতকে
উঠে! ভীষণ জ্বর
মেয়েটার!
তড়িঘড়ি করে এক
বালতি পানি আর মগ
এনে
নিশাতের মাথায়
আস্তে করে পানি
ঢালে
রাহাত। কিছুক্ষণ পর
শরীরের তাপমাত্রা
কমে
যায়। নিশাত উঠে
বসতে চাইলে ওর হাত
ধরে
উঠে বসতে সাহায্য
করে রাহাত। তারপর ,
রাহাত গিয়ে নিজ হাতে
বানানো ব্রেকফাস্ট
এনে নিশাতকে খাইয়ে
দিতে যায়। মেয়েটা
বলে ওঠে,
- ব্রেকফাস্ট কে
বানিয়েছে?
-আমি ( অবনত মুখে )
- খাইয়ে দেয়া লাগবেনা,
এদিকে দিন, আমি
খেয়ে নিচ্ছি
রাহাত কিছু মনে করে
না। চুপ করে নিশাতের
কাঁপা কাঁপা হাতে খাওয়া
দেখে অবাক
চোখে। মুখ দেখে বুঝা
যায়, মেয়েটি সারারাত
ঘুমায় নি। তবে বুকে
সূক্ষ্ণ অনুভূতি
জাগানো
মায়াবী মুখ মেয়েটার।
রাহাত অপলক চোখে
চেয়ে থাকে।
রাহাত ভেবেছিল জ্বর
বুঝি সেরে গিয়েছে।
কিন্তু সেদিন রাত্রে
শরীর কাঁপিয়ে আবার
জ্বর এলো নিশাতের।
জ্বরের ঘোরে প্রলাপ
বকছে ও । তাড়াতাড়ি
করে নিশাতকে
হাসপাতালে নিয়ে যায়
রাহাত। মেয়েটির
কষ্ট দেখে বুকটা ভারী
হয়ে আসছে ওর।
হাসপাতালে নেয়ার পর ,
ডাক্তারের দেয়া
ওষুধ খাওয়ানোর পর
জ্বর কিছুটা কমে
নিশাতের। কিন্তু চোখ
দুটো খুলতেও যেন
ভীষণ কষ্ট হচ্ছে ওর।
রাহাত নিজ হাতে
রাতের খাবার রান্না
করে
আনে নিশাতের জন্য।
মেয়েটি তখনো নিজ
থেকে উঠে বসতে
পারেনি। রাহাত ওকে
উঠে
বসায়। নিশাতের মুখ
দেখে ভীষণ মায়া হছে
ওর। চেহারাটা কেমন
রোগা রোগা হয়ে
গিয়েছে। রাহাত নিজ
থেকেই নিশাতের
দিকে খাবার এগিয়ে
দেয় নিজ হাতে।
নিশাত
দুর্বল স্বরে বলে,
- আমাকে দিন, আমি
খেয়ে নিচ্ছি
এবার রাহাতের মন
খারাপ হয় ভীষণ।
অবনত
চোখে নিশাতের দিকে
খাবারের প্লেট
এগিয়ে দেয়। অল্প করে
খেয়ে নিশাত আবার
শুয়ে পড়ে। ঘুমানোর
আগে রাহাতকে বলে,
- আপনিও শুয়ে পড়ুন
রাহাত হেসে মাথা
নাড়ায়। নিশাত পাশ
ফিরে
শোয়। রুমের লাইট বন্ধ
করে রাহাত নিশাতের
পাশে বসে থাকে।
জানালার ফাঁকে রাতের
শহরের ঢাকা দেখা যায়
ওই। আকাশভরা তারা
,নিচের রাস্তায় গাড়ির
হেডলাইটগুলোর
ছুটোছুটি আর
অন্ধকারের মাঝে
বিস্ময়ভরা
চোখে তাকিয়ে থাকে
রাহাত। এই যান্ত্রিক
শহরে কেমন একা বোধ
করছে আজ ও!
সারারাত ঘুমায়নি
রাহাত। শেষরাতের
দিকে
আবার প্রচন্ড জ্বর
উঠে নিশাতের। রাহাত
তড়িঘড়ি করে এক
বালতি পানি এনে
নিশাতের মাথায় ঢালে
অল্প করে আর ভীষণ
গরম কপালে হাত
বুলিয়ে দেয়। যেন
নিশাতের
শরীরের উত্তাপগুলো
শুষে নিতে চাইছে।
তখন
প্রায় ভোর হয়ে
গিয়েছে। সূর্যের আলো
একটু
করে ছড়াচ্ছে
চারিদিকে। রাহাত
নিশাতের
কপালে পানি ঢেলে
চলেছে। একসময়
নিশাতের জ্বর কমে
যায় একটু করে।
নিশাত চোখ মেলে
অবাক চোখে তাকিয়ে
দেখে একটি
অনিদ্রারত রুগ্ন মুখ
ওর দিকে
তাকিয়ে প্রশান্তির
হাসি হাসছে। নিশাত
জিজ্ঞেস করে,
- আপনি ঘুমাননি?
- ইয়ে মানে, ঘুম
আসছিলো না , তাই
জেগে
ছিলাম
- ও
- খুব ক্ষুধা লেগেছে
আপনার, হু?
- হ্যা
- একটু অপেক্ষা করুন
রাহাতের দিকে চেয়ে
নিশাত অবাক হয়
ভীষণ
।
রাহাত তাড়াতাড়ি করে
আনাড়ি হাতে
বানানো ব্রেকফাস্ট
নিয়ে এগিয়ে যায়
নিশাতের দিকে। হাতে
খাবার তুলে নিয়েও
কি মনে করে আবার
রেখে দেয় প্লেটে।
তারপর, প্লেটটা এগিয়ে
দেয় নিশাতের দিকে
অবনত চোখে। নিশাত
প্লেটটা হাতে নিয়ে
অভিমানের সুরে বলে,
- খাইয়ে দিবেন না?
অবাক চোখে নিশাতের
দিকে তাকায় রাহাত!
দেখে, মিটিমিটি
হাসছে মেয়েটা। নিশাত
আবার জিজ্ঞেস করে,
- কি, খাইয়ে দিবেন না
আমাকে?
রাহাতের মুখে তখন
বিশ্বজয়ের হাসি।
সকালের সোনালী রোদ
জানালার ফাঁক গলে
তখন আছড়ে পড়ছে
দুজনের গায়ে। হাসিতে
উদ্ভাসিত চারিদিক।
ভোরের আলো সাক্ষী
হয়ে রইলো একটি নতুন
সূর্যোদয়ের আর
একজোড়া প্রাণের
ভালোবাসার বন্ধনে
আবদ্ধ হওয়ার
ইতিহাসে ।
ভালো থাকুক
ভালোবাসাগুলো।
Roleplay Gameplay
এই পেইজে বাস্তব অভিজ্ঞতা, রহস্যময়, জোকস্, রোমান্টিক, sad st0ry পাবেন।।
ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ - ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ - ﻭﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻣﺤﻤﺪﺍ
ﻋﺒﺪﻩ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ
[ বুখারী : ৭৮৮]
বাংলা উচ্চারণ : আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি,
ওয়াস সালাওয়াতু, ওয়াত- তাইয়্যিবাতু, আস
সালামু আলাইকা, আইয়্যুহান নাবিয়্যু, ওয়া
রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আস সালামু
আলাইনা, ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস-সা
লিহীন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু,
ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া
রাসূলুহু।
অর্থ : আমাদের সকল সালাম শ্রদ্ধা,
আমাদের সব নামায এবং সকল প্রকার
পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। হে
নবী, আপনার প্রতি সালাম, আপনার উপর
আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক।
আমাদের এবং আল্লাহর সকল নেক
বান্দাদের উপর আল্লাহ্র রহমত এবং অনুগ্রহ
বর্ষিত হউক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,
আল্লাহ ছাড়া (ইবাদাতের যোগ্য) আর কেউ
নেই,আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত
মুহাম্মাদ সা. আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল।
যাকাতের অর্থ ব্যয়ের খাতসমূহ
আল্লাহ তা’আলা কুরআন পাকে জাকাতের
অর্থ ব্যয়ের খাতসমূহ উল্লেখ করে
দিয়েছেন। কুরআনে জাকাতের অর্থ ব্যয়ের
জন্য ৮টি খাত উল্লিখিত হয়েছে।
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺎﺕُ ﻟِﻠْﻔُﻘَﺮَﺍﺀِ ﻭَﺍﻟْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ ﻭَﺍﻟْﻌَﺎﻣِﻠِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ
ﻭَﺍﻟْﻤُﺆَﻟَّﻔَﺔِ ﻗُﻠُﻮﺑُﻬُﻢْ ﻭَﻓِﻲ ﺍﻟﺮِّﻗَﺎﺏِ ﻭَﺍﻟْﻐَﺎﺭِﻣِﻴﻦَ ﻭَﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﻭَﺍِﺑْﻦِ ﺍﻟﺴَّﺒِﻴﻞِ ﻓَﺮِﻳﻀَﺔً ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠِﻴﻢٌ ﺣَﻜِﻴﻢٌ
ফকির
ফকির যারা নিজেদের সাধারণ জীবন
যাপন করতে পারে না। অনেক দু:খে-কষ্টে
কালাতিপাত করে- তাদেরকে
যাকাতদেয়া হবে।
হাদিস শরিফে বলা হয়েছে,
‘তোমাদের মধ্যে যারা ধনী তাদের
থেকে যাকাতনেয়া হবে, আর গরিবের
মাঝে বিতরণ করা হবে।’
মিসকিন
সহায়-সম্বলহীন হৃতসর্বস্ব ব্যক্তি যার নিকট
নগদ অর্থ বলতে কিছুই নেই- এমন লোকদের
যাকাতদেয়া হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারী
জাকাতের পয়সা বা সম্পদ উসুল করার
কাজে নিয়োজিত কর্মচারী কর্মকর্তাদের
বেতন ভাতার কাজে জাকাতের অর্থ ব্যয়
করা হবে। চাই এরা ধনী হোক অথবা গরিব।
সর্বাবস্থায় এ জাকাতের থেকে তারা
তাদের বেতন ভাতা গ্রহণ করতে পারবে।
কৃতদাসকে মুক্তকরার জন্য
কৃতদাস বা কৃতদাসীকে মুক্ত করার জন্য
জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে।
মুআল্লাফাতে কুলুব
অমুসলিম বা কাফের সম্প্রদায়ের জন্য
জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে। যাতে
তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাদের
অন্তরে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি আকর্ষণ
বোধ করে। একমাত্র এ ধরনের কোন উদ্দেশ্য
ছাড়া অমুসলিমদের মধ্যে জাকাতের অর্থ
ব্যয় করা যাবে না।
ঋণগ্রস্ত:
ঋণগ্রস্ত কোন ব্যক্তির ওপর তার ঋণের
বোঝা কমানো বা ঋণ মুক্ত করার উদ্দেশ্যে
জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে।
ফি সাবিলিল্লাহ খাত
ফি সাবিলিল্লাহ বলতে যারা আল্লাহর
পথে বিভিন্নভাবে জিহাদরত তাদের
সার্বিক সাহায্যার্থে জাকাতের অর্থ
প্রদান করা যাবে।
মুসাফিরদের জন্য
কোন মুসাফির ব্যক্তি পথিমধ্যে
অর্থাভাবে বিপদগ্রস্থ বা অসহায় হয়ে
পড়েছে। বাড়ী পর্যন্ত পৌঁছার মত কোন
সম্বল তার সঙ্গে নেই। এমতাবস্থায়
জাকাতের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা বা
লোকটির জন্য জাকাতের অর্থ গ্রহণ করা
সম্পূর্ণ বৈধ।
রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের
বার্তা নিয়ে আবারো আমাদের মাঝে
হাজির মাহে রমজান. অফুরন্ত রহমতের
পয়গাম নিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল
আলামীনের বার্তাবাহক বান্দার
দুয়ারে হাজির রমযান। বরকতের মাস
রমজান, কল্যাণের মাস রমজান, ক্ষমার
মাস রমযান, কুরআন নাযিলের মাস
রমযান। কুরআনই মানবজাতিকে
শিরকের অন্ধকার হতে তাওহীদের
আলোয় আলোকিত করে। মহান স্রষ্টার
পরিচয় করিয়ে দেয়, মানবজাতির
দায়িত্ব ও কর্তব্য বাতলিয়ে দেয়। হক-
বাতিল, ন্যায়-অন্যায়, বৈধ-অবৈধতার
সীমারেখা বর্ণনা করে। মানুষের
হেদায়াতের আলোকবর্তিকা আল
কুরআন। মহান আল্লাহর বাণী ঃ
ﺷﻬﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺍﻟﺬﻱ ﺃﻧﺰﻝ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻫﺪﻯ ﻟﻠﻨﺎﺱ ﻭﺑﻴﻨﺎﺕ ﻣﻦ ﺍﻟﻬﺪﻯ
ﻭﺍﻟﻔﺮﻗﺎﻥ ﻓﻤﻦ ﺷﻬﺪ ﻣﻨﻜﻢ ﺍﻟﺸﻬﺮ ﻓﻠﻴﺼﻤﻪ ﻭﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻣﺮﻳﻀﺎ ﺃﻭ ﻋﻠﻰ
ﺳﻔﺮ ﻓﻌﺪﺓ ﻣﻦ ﺃﻳﺎﻡ ﺃﺧﺮ ﻳﺮﻳﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻜﻢ ﺍﻟﻴﺴﺮ ﻭﻻ ﻳﺮﻳﺪ ﺑﻜﻢ ﺍﻟﻌﺴﺮ
ﻭﻟﺘﻜﻤﻠﻮﺍ ﺍﻟﻌﺪﺓ ﻭﻟﺘﻜﺒﺮﻭﺍ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﻫﺪﺍﻛﻢ ﻭﻟﻌﻠﻜﻢ ﺗﺸﻜﺮﻭﻥ
অর্থÑ রমজান মাস, এতে নাজিল হয়েছে
আল-কুরআন, যা মানুষের দিশারি এবং
স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের
পার্থক্যকারী। কাজেই তোমাদের
মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে এ
মাসে রোজা রাখবে। যে ব্যক্তি অসুস্থ
থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য
সময়ে সে রোজা করে নিবে। আল্লাহ
তোমাদের জন্য সহজ করতে চান,
তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন
না-যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং
তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন
আল্লাহ তা‘আলার মহত্ব বর্ণনা কর,
যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
(সূরা আল বাকারা : ১৮৫)
রমজান মাস বরকতের উৎস ও মহান
প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রহমত
অবতীর্ণ হওয়ার মাস
পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে মহান
আল্লাহর নিকটবর্তী হওযার মাস। এ
মাসে মানুষ নিজের গুনাহ হতে ক্ষমা
প্রর্থনার সুযোগ পায় এবং আল্লাহর
প্রকৃত বান্দা এ সুযোগকে কাজে
লাগিয়ে পূর্বেকার সকল পাপ ও
পঙ্কিলতা হতে মুক্ত হয়ে সুন্দর ভবিষ্যত
গড়ার দিকে ধাবিত হয়।
রমজান; আত্মশুদ্ধির মাস
পবিত্র রমজান মাস বছরের অপর মাস
অপেক্ষা এমন কিছু গুণাবলীর অধিকারী
যে কারণে অন্যান্য মাস অপেক্ষা এ
মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অধিক। মহান
আল্লাহ্ এ মাসে পবিত্র কোরআন
অবতীর্ণ করেছেন। আর এ মাসের একটি
রজনীকে তিনি বছরের শ্রেষ্ঠ রজনী
(শবে কদর) হিসেবে স্থান দিয়েছেন।
যা হাজার রাত্র অপেক্ষা উত্তম বলে
পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।
copy post ছেঁ
গাজীপুর চৌরাস্তায় বাস থামলো
ইফতারের জন্য। বাস থেকে নেমেই
দেখলাম সব দোকানিরা ডেকে ডেকে
বলছে, এই যে ভাই, সব গরম
গরম, খালি পাঁচ টাকা পিস।
আমি একটা জুসের বোতল হাতে ঘুরছি।
কি কিনবো কিছুই বুঝতে পারছি না।
কিছু কেনার আগেই আজান পড়ে গেলো।
মুহূর্তেই পালটে গেলো সব ব্যবসায়ী
মানুষগুলো। এক ইফতার ব্যবসায়ী
ডাকাডাকি বন্ধ করে কিছু বুট মুড়ি
মাখছে আর বলছে, ভাই যারা যারা
এখনো কিছু কিনতে পারেন নাই তারা
এখান থেকে খাওয়া শুরু করে দিন।
অথচ এই লোকটাই দুই মিনিট আগে একটা
বেগুনিও কাউকে ফ্রি দেয়নি!
লেবুর শরবত বিক্রেতা ছেলেটাও ডেকে
ডেকে বলছে, রোজাদার ভাইয়েরা
এখান থেকে ঠান্ডা পানি খান, টেকা
লাগবো না। আমি অবাক হয়ে সব
দেখছি। এর মধ্যে আমার পিঠে হাত
দিয়ে একজন বললো,
- ভাই খাইছেন কিছু?
আমি থতমত খেয়ে বললাম,
- এই তো ভাই জুস খাচ্ছি।
- আরে ভাই মুড়ি মাখানো আছে, খালি
গিলেন, ওই ভাইরে ঠাণ্ডা পানি দে।
- দোকানের লোক কে ভাই?
- আরে ভাই খান তো। দোকানের লোক
আমিই।
জোর করে আমাকে ইফতারে বসিয়ে
তিনি আরো মানুষকে ডাকতে চলে
গেলেন। একটা একটা দূরপাল্লার বাস
এসে থামছে। যাত্রীরা বাস থেকে
নামা মাত্রই লোকটা ধরে ধরে নিয়ে
আসছে ইফতারির জন্য। দৃশ্যটা এতই সুন্দর
লাগছিলো যে, দেখতে দেখতে আমার
আর ভালো করে খাওয়া হলো না.. copy post,,,,,, ছেঁড়া চিরকুট
একদিন
হঠাৎ তার ভাবীকে ধরে প্রচুর
মারধোর করতে লাগলো!
সবাই অবাক
হয়ে খানকে থামালো আর জিজ্ঞেস
করল,তুমি তোমার ভাবীকে মারছ
কেন???
তখন খান বলেঃআমার ভাবী ভাল
মহিলা না!
সবাই বলল: তুমি কিভাবে বুঝলা?
খানঃআর বইলেননা!আমি আমার যেই
বন্ধুকেই
ফোনে কথা বলতে দেখে জিজ্ঞেস
করি,কার
সাথে কথা বলিস?সেই বন্ধুই উত্তর
দেয়
তোর ভাবীর সাথে!!!!
তিন শ্রেণির মানুষ রয়েছে যাদের চক্ষু
জাহান্নাম দেখবে না-
যারা আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেয়
যারা আল্লাহর রাস্তায় কাদে
যারা বেগানা নারী দেখলে চক্ষু নিচু
করে ফেলে
- আল হাদিস....................................................
অসমাপ্ত গল্পের শেষ পাতা
তরু অনেকক্ষণ ধরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।
বিকেলের এই সময়টুকুই তার বারান্দায় থাকতে বেশ
ভালো লাগে। তখন সে শূন্য দৃষ্টিতে সামনের চা
বাগানের দিকে তাকিয়ে অন্য কোনো জগতে
হারিয়ে যায়। গত এক বছর ধরে সে এই পাত্রখোলা
চা বাগানে আছে। বাগানের ম্যানেজার সে। এই
চাকরিটা পেতে তার বেশ কষ্টই হয়েছে। তবুও তার
মাঝে এক ধরনের জেদ ছিল। তাই হয়তো শেষ
পর্যন্ত পেরেছে। যেহেতু সরকারি চাকরি, সেখান
থেকেই সে এই ডাক বাংলোটি পেয়েছে থাকার
জন্য। একাই থাকে তরু এখানে। না, আসলে ঠিক একা
না। বাগানের মালি, বাবুর্চি আর একজন বুয়া। এই তিনটা
মানুষও থাকে বাংলোর নিচ তলায়। তরুর খারাপ লাগে না
এমন একা একা থাকতে। বরং সে এমনই একটি জীবন
চেয়েছিল সবসময়। সবার থেকে দূরে, একা একা,
সে নিজের মতো।
সূর্য ডুবে গেছে। তরুর হালকা শীত লাগছে। কিন্তু
ভিতরে যেতে ইচ্ছে করছে না। এও এক অদ্ভূত
ব্যাপার। তরু কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ভিতরে রুমে
গেল। শীতকাল চলছে। তাই চা বাগান দেখতে
অনেক মানুষ আসছেন। তারা একরাত থাকছেন। আবার
চলে যাচ্ছেন। গেস্ট হাউসের খাতায় চোখ বুলিয়ে
তরু দেখলো আর কোনো রুম খালি নেই। কেউ
যদি আসে তাহলে তার থাকার জায়গা হবে না। তবে তরু
গেস্ট হাউসের ম্যানেজারকে বলে রেখেছে,
যদি কোনো ফ্যামিলি আসে তাহলে তাদের যেন
বাংলোতে পাঠিয়ে দেয় থাকার জন্য। একটা ফ্যামিলি
থাকলে কোনো সমস্যা হবার কথা না তার । খুট করে
দরজায় আওয়াজ হলো। বুয়া এসে বলল-
- রাতে খাইবেন না, আপা?
- না খাব না। তোমরা খেয়ে শুয়ে পরো।
- আইচ্ছা।
বুয়া দরজা বন্ধ করে একটা বড় নিশ্বাস ফেলল। সে
এখনও তার আফাকে ঠিক বুঝতে পারে না। সে মাঝে
মাঝেই খায় না। নিজের মনে কি যেন বিরবির করে
সবসময়। বুয়ার ধারণা তার আফার উপর নিশ্চিত জ্বীনের
আছর আছে। না হলে মানুষ একা একা কেন কথা
বলবে? তাই সে তার আপাকে বড্ড ভয় পায়।
তরুর রাতে ঘুম হয় না। ইচ্ছে হলে লেখালেখি
করে বা বেশির ভাগ সময় চুপচাপ বসে থাকে। বারান্দায়
বসে রাতের আকাশের তারা গুলোর দিকে তাকিয়ে
তার অতীতের কথা ভাবতে ভাল লাগে। মাঝে মাঝে
একা একাই হাসে আবার কাঁদে। কেন যেন তখন তার
নিজেকে কোন উপন্যাসের চরিত্র মনে হয়।
আসলেই কি সে কোন এক উপন্যাসের অংশ?? কে
লিখছেন এই কাহিনী?? এসব এলোমেলো চিন্তা
করতে করতেই তার রাত অনেকটা কেটে যায়,
ঘুমহীন।
এই করনেই সকালে উঠতে সবসময়ই খানিকটা দেরি
হয় তরুর। আজও উঠতে উঠতে প্রায় দশটা বেজে
গেছে। সে চোখ খুলেই দেখল বুয়া তার সামনে
উদ্বিগ্ন মুখে তাকিয়ে আছে। তরু চোখ খোলার
সাথে সাথেই বলল
- আফা, উঠছেন?
- হুম।
- আফা, নিচে দুইডা মানুষ আসছে। সাথে ছোট একটা
বাচ্চা মাইয়া। যে সোন্দর গো আফা, খালি চাইয়া
থাকতে মুন চায়। অমন সোন্দর বাচ্চা আমি
জিন্দিগিতেও দেহি নাই। মাশাল্লাহ!
- বুয়া তোমাকে আমি কম কথা বলতে বলছি। বেশি
কথা আমার একদম পছন্দ না।
- কিন্তু আফা…
- হয়েছে। কথা কম। নিচে যাও। তাদের নাস্তার
ব্যবস্থা করো। আর বলো, আমি একটু পর আসছি।
- আইচ্ছা।
বুয়া চলে যাওয়ার পর তরু চোখ বন্ধ করল। ওর আবার
ঘুম পাচ্ছে। এখন ঘুমানো কী উচিত হবে? নিচে
দু’জন মানুষ বসে আছে। না, না, তিনজন। ছোট একটা
বাচ্চা আছে। নিশ্চয় গেস্ট হাউসের ম্যানেজার
পাঠিয়েছে। অনেকক্ষণ ধরেই হয়তো বসে
আছে। তরু উঠে বসল। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। আজ
একটা বিশেষ দিন। তরু মনে প্রাণে চায় দিনটা ভুলতে,
কিন্তু পারে না। তাই হয়তো মাথা ব্যাথা। তরু উঠে
অনেকটা সময় লাগিয়ে গোসল করে বের হলো।
তার সবচেয়ে পছন্দের লাল শাড়িটা পরলো। সে
সচরাচর শাড়ি পরে না। কিন্তু আজ একটা বিশেষ দিন, তাই
শাড়ি পরা। তরু কপালে লাল টিপটা লাগিয়ে কিছুক্ষণ আয়নায়
নিজের দিকে তাকিয়ে রইল। তার কি বয়স হয়েছে?
চেহারায় কেমন যেন বিধ্বস্ত একটা ভাব। নিজের
চেহারা দেখে নিজেই অবাক হলো সে। ছোট্ট
একটা নিশ্বাস ফেলে নিচের ড্রয়িং রুমে গেল।
সেখানে একজন পুরুষ আর মহিলা বসা। আর তাদের
ছোট্ট মেয়েটা এদিক সেদিক দৌড়াচ্ছে। সোফায়
বসা পুরষটাকে দেখে এক মুহুর্তের জন্য তরু
থমকে গেল। সে সত্যিই তাকে দেখছে নাকি শুধুই
তার কল্পনা। বসে থাকা মানুষটি উঠে দাঁড়ালো। তার
চোখেও ঠিক একই বিস্ময়। তরু আস্তে আস্তে
মানুষটির কাছে এগিয়ে গেল। হ্যাঁ, সে ঠিক। এটিই
সেই মানুষটি, তার কল্পনা নয়। এটিই সেই মানুষ যার
সাথে তরু হাতে হাত রেখে পুরো পাঁচটি বছর
প্রেম করেছে। কতোই না স্বপ্ন বুনেছে এক
সাথে। কতো বর্ষায় ভিজেছে দুজনে, শরৎতে
কাশফুলের বনে খেলেছে লুকোচুরি, বসন্তের
বাতাস গায়ে মেখেছে এক সাথে আর গ্রীষ্মের
ভরা রোদে শহরের রাস্তায় হাত ধরে হেটেছে
ক্লান্তিহীন। আজ সেগুলো নিছকই অতীত ছাড়া
কিছু নয়। তরু চেয়েছিল এই মানুষটিকে বিয়ে
করতে। তার সাথে ছোট্ট একটা সুখের সংসার
করতে। কিন্তু বাস্তবতা খুবই কঠিন। সেটা তরু সেদিনই
বুঝতে পেরেছিল যেদিন এই মানুষটি তার সামনে
এসে বলেছিল, সে তাকে বিয়ে করতে পারবে না।
কারণ তার মা তরুকে কখনোই মেনে নেবেন না।
আর সে তার পরিবারে বিরুদ্ধে যাবে না। তরু সেদিন
কিছুই বলেনি। শুধু অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।
আর একটি কথাও বলে নাই। চলে গিয়েছে অনেক
দূরে সেই ছেলেটির জীবন থেকে। পরিবারের
হাজারো বাধা, শত চাপ থাকা সত্বেও তরু বিয়ে করেনি।
কী করে করবে? সে তো সেই জায়গাটা আর
কাউকে দিতে পারবে না। তাই সে নিজের পায়ে
দাঁড়িয়েছে এবং চলে এসেছে সবার থেকে
দূরে। যেখানে সে একদম একা। এই মানুষটির আজ
জন্মদিন। আর ঠিক আজই ছয় বছর পরে আবার সেই
মানুষটার সামনেই দাঁড়িয়ে নিজের আবেগকে
আটকানো এত সহজ না, তবুও তরু নিজেকে সামলিয়ে
হাসি মুখে বলল:
- আমি রুবাইতা করিম। এই বাগানের ম্যানেজার।
কিছু মূহুর্ত অবাক হয়ে চেয়ে থেকে মানুষটি বলল:
- আমি আবিদ হাসান। ও আমার ওয়াইফ মিলি। আর এটা
আমাদের মেয়ে।
তরু একবার মিলির দিকে তাকিয়ে হাসল। কিছু বলল না।
হেঁটে গেল বাচ্চা মেয়েটির কাছে। কত বয়স
হবে বাচ্চাটার? তিন কি সাড়ে তিন বোঝা যাচ্ছে না। তরু
হাটু গেড়ে বাচ্চাটার সামনে বসল। আদুরে গলায় বলল:
- কী নাম তোমার, মা?
- আরিয়া।
নামটা শুনে কেন যেন তরু আর নিজেকে সামলাতে
পারল না। চোখ ভরে আসলো পানিতে। সে আর
আবিদ মিলে ঠিক করেছিল তাদের মেয়ের নাম
রাখবে আরিয়া। আবিদ তাই রেখেছে। তরু জড়িয়ে
ধরল আরিয়াকে। তার চোখ থেকে টপটপ করে
পানি পড়ছে। কিন্তু সেটি কেউ খেয়াল করল না। কিছু
কিছু কান্না অদৃশ্য হয় যা কখনো দেখা যায় না। হয়তো
গল্পের শেষ পাতায় এমন কিছুই লেখা ছিল।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the business
Telephone
Website
Address
Mymensingh
2200